দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ (তিতাস-২৮) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আজ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়েই চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমানে প্রায় তিনগুণ অতিরিক্ত ব্যয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উত্তরোত্তর উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তিতাস-২৮ থেকে আজ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে তিতাস-২৯, তিতাস-৩০ ও তিতাস-৩১ নম্বর কূপের খননকাজও চলমান রয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সম্মিলিতভাবে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরও ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসসহ মোট দৈনিক ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ সম্ভাব্য ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, তিতাস-২৮ কূপ চালু হওয়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ১০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পতম সময়ে ৩১টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৫০টি কূপ খনন সম্পন্ন হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এছাড়া বিদ্যমান দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পরিকল্পিত আরও দুটি এফএসআরইউ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজনিত সংকটের আগে দেশে দৈনিক ২৬০০-২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সংকটের কারণে তা কমে দৈনিক ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। তবে সরকারের জরুরি উদ্যোগের ফলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। একইসঙ্গে অনশোর ও অফশোর উভয় ক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের খননকাজ এগিয়ে চলছে। এসব কূপের খননকাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। ফলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। এরপর গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। পরীক্ষামূলক সরবরাহের সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার বা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। এটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বাসস
কে