দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতায় পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাতার হার কমবে এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়া ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বাতিল হবে।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতায় যেসব বড় পরিবর্তন আসছে, তার মধ্যে রয়েছে ইনক্রিমেন্টের হার পরিবর্তন, বাড়িভাড়া ভাতার হার কমানো, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় কমানো, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, বিশেষ প্রণোদনা বাতিল এবং মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করা।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে একইভাবে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোতে ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট রাখা হচ্ছে। এরপর পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো রাখা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজরে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতার হারও পরিবর্তন হচ্ছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। নতুন পে-স্কেলে তা কমে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে বাড়িভাড়ার হার ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোতে তা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হবে। দেশের অন্যান্য এলাকায় বর্তমান হার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোতে এই হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় শতাংশের হার কমলেও টাকার হিসাবে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়তে পারে।
চিকিৎসা ভাতাতেও পরিবর্তন আসছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনার ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী পেনশনার ৬ হাজার টাকা পাবেন। বর্তমানে সাধারণ কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা।
নতুন কাঠামোতে সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ফোন ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মাসে ১৫০ টাকা পাওয়া যাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিল থাকলেও নতুন কাঠামোতে তা ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোতে এই সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে একই গ্রেডে ছয় বছর চাকরির শর্ত আগের মতোই থাকবে। পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন ব্লকড পদে চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব ধরনের ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ ১০ শতাংশ প্রণোদনা বাতিল হবে। ফলে নতুন কাঠামোতে মূল বেতন বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের হারেও পরিবর্তন আসবে।