দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনই ছিল সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অধিকাংশ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-৪, ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনে উত্তেজনা ছিল সর্বাধিক।
বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকার অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী। বিজয়ী হিসেবে ঢাকা-৮ এ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৬ এ ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৭ এ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এবং ঢাকা-১১ এ এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলাম রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীও কিছু আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ঢাকা-১৪ এ মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও জয় নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ২০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-৮ আসন সবচেয়ে আলোচিত। এখানে ভোট গণনা ও ফল ঘোষণাকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।
ঢাকা-১৩ আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।
ভোটের দিন কিছু কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা দেখা গেছে, বিশেষ করে ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১৩ এ। নির্বাচনি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করেছেন।
রাজধানীর এই ২০ আসনের ফলাফল শুধু সরকার গঠনের হিসাব নয়, বরং নগর রাজনীতির ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলবে। ভোটাররা স্থানীয় সমস্যা, সেবা, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য এই ফলাফল একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীর এই নির্বাচনী লড়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এমএস/