দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানবতা, সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্ম দিনেও মুরাদনগরে অবহেলায় নজরুল-নার্গিসের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ীটি। কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ধরে ৮ কি: মি: সামনে আসলেই কবিতীর্থ দৌলতপুর গ্রাম। এ গ্রামে ঢুকতেই হাতের ডান পাশে চোখে পড়বে ‘নজরুল তোরণ’। তোরণের দুই পাশে ইট-সিমেন্টের তৈরি কালো রঙের টুকরো টুকরো ব্লকে সাদা কালিতে লেখা কবির পক্তিমালা। ওই পথ ধরে আধা কিলোমিটার ভিতরে গেলেই খান বাড়ি। যে বাড়িটিকে কেন্দ্র করে নজরুলময় হয়ে ওঠেন ভক্তরা। ওই বাড়ি আর গ্রাম দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত হয়ে ওঠে নজরুল-নার্গিসের গ্রাম হিসেবে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় কবি নজরুল-নার্গিসের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। মুরাদনগর উপজেলা দৌলতপুর গ্রামে আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে নার্গিস আশার খানমের সঙ্গে তার প্রেম হয়। দুই মাস ১১ দিন এ বাড়িতেই ছিলেন কবি নজরুল ইসলাম নার্গিসকে বিয়ে করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি নজরুল ও ১৯৮৪ সালের ২ মে লন্ডনে নার্গিস মারা যান। তখন থেকেই দেশবিদেশে পরিচিত হয়ে ওঠে নজরুল-নার্গিসের গ্রাম দৌলতপুর।
এখানে রয়েছে আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বি-তল বাড়ি। এ বাড়িতেই থাকতেন কবি নজরুল। দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার সংস্কার না করায় বাড়িটির পলেস্তর খসে পড়ছে। এ ভবনের পেছনে বাঁশঝাড় পার হলেই কবির বাসর ঘর। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কবির বাসরঘরটি আটচালা ছিল। পরে চৌচালা করা হলেও আয়তন ও ভিটির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ওই ঘরেই ছিল নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক। অযত্ন ও অবহেলার কারণে সিন্দুকটি কোথায় আছে তা কেউ বলতে পারে না। এক সময় ওই ঘরে বাসর খাটটিও ছিল। সেটি পাশের একটি আধা পাকা ঘরে রাখা হয়েছে।
সেটি পাশের একটি আধা পাকা ঘরে রাখা হয়েছে দৌলতপুরে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুপম লীলাভূমি কবিতীর্থ দৌলতপুর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যে নান্দনিক মাত্রা দিয়েছে। এখানেই ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি আর হাতে রণতূর্য’র ঝংকার বেজেছিল নার্গিসের সুপ্ত ভালোবাসার সংস্পর্শে। এখানেই নার্গিসের ভালোবাসার আগুনের পরশমানিকের ছোঁয়ায় বেজেছিল নজরুলের ‘অগ্নিবীণা’। দৌলতপুর গ্রামে নার্গিছের বাড়ীর সানবাধাঁনো পুকুর ঘাট, আম গাছ ও কামরাঙা গাছের নিচে বসে বাশিঁ বাঁজি বাঁশি শুরে শুরে কবিতা, গান আর ছড়া রচনা করেছেন ১২০টি। দৌলতপুর আজও মারাত্মক অবহেলিত রয়েছে। সারাদেশে নজরুলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও দৌলতপুর গ্রামে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির নামে হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় কিছু সংঘঠন প্রতিবছর কবি নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে কিছু দাবি নিয়ে আন্দোলন করে কোনো প্রকার ফলাফল পায়নি। এলাকাবাসী একান্ত প্রচেষ্ঠায় নার্গিসের পরিবার পরিজনরা কবি নজরুল-নার্গিসের স্মৃতিবিজড়িত দৌলতপুরে নির্মিত নার্গিস-নজরুল বিদ্যনিকেতনটি প্রতিষ্ঠা করে।
সংবাদকর্মী আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়া বলেন, মুরাদনগর উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর আঞ্চলিক মহাসড়কটি জাতীয় কবি নজরুল-নার্গিছ নামে নামকরণ করার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।
কবিপত্নী নার্গিস বংশের উত্তরসূরী বাবলু আলী খান দেশ টেলিভিশনকে জানান, এ বাড়ির পুকুর ঘাটের আম গাছ তলায় কবি দুপুরে শীতল পাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খান বাড়ির ছেলে-মেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে ‘নজরুল মঞ্চ’।
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর গ্রামে কবির নামে অনেক কিছু হয়েছে। অথচ মুরাদনগর উপজেলা দৌলতপুর গ্রামের কিছুই হলো না। কবি দুই মাস ১১ দিন ছিলেন। এখানে তিনি যৌবনে প্রেম ও বিয়ে করেছেন। অনেক কবিতা ও গান রচনা করেছেন ১২০টি। দৌলতপুরে কবির নামে বড় ধরনের স্থাপনা ও নজরুল চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।