দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাহিত্যে নোবেলজয়ী কানাডিয়ান লেখিকা অ্যালিস মানরো ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন। স্থানীয় সময় গত সোমবার (১৪ মে) রাতে অন্টারিওর পোর্ট হোপে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ মে) বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যালিস মানরোর প্রকাশক ক্রিস্টিন কোচরেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এলিসের লেখনী অসংখ্য লেখককে অনুপ্রাণিত করেছে… এবং তার সাহিত্যকর্ম আমাদের সাহিত্য জগতে এমন দাগ কেটে গেছে, যা মুছে যাওয়ার নয়।”
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে কানাডার সংবাদপত্র দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল জানায়, মানরো প্রায় এক দশক ধরে ডিমেনশিয়ায় (স্মৃতিভ্রষ্ট রোগ) ভুগছিলেন। সোমবার তিনি মারা যান।
এলিস মানরো ১৯৩১ সালে অন্টারিওর উইংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তার লেখা অনেক গল্পেই এই এলাকার কথা এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবনবোধ ও সংস্কৃতি উঠে এসেছে।
বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কথা নিজের লেখনীতে তুলে ধরায় খ্যাতি ছিল মানরোর।
তার ছোট গল্পে যে অন্তদৃষ্টি ও সহমর্মিতা ফুটে উঠত, সে কারণে প্রায়ই তাকে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত রুশ লেখক আন্তন চেখভের সঙ্গে তুলনা করা হতো। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণার সময় সুইডিশ একাডেমিও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছিল।
মানরোর প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘ড্যান্স অব দ্য হ্যাপি শেডস’-এর হাত ধরে। এটি পশ্চিম অন্টারিওর শহরতলির জীবন সম্পর্কে লেখা তার ছোট গল্প সংকলন। যা কানাডার সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মাননা ‘গভর্নর জেনারেল’স অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছিলেন।
মানরো তেরোটি গল্প সংকলন, ‘লাইভস অব গার্লস অ্যান্ড উইমেন’- নামের একটি উপন্যাস, এবং নির্বাচিত গল্পের দুটি খণ্ড প্রকাশ করেছেন।
১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিন ‘রয়্যাল বিটিংস’-নামের মানরোর একটি গল্প প্রকাশ করেছিল। ছোটবেলায় তার বাবার তাকে দেওয়া বিভিন্ন শাস্তির উপর ভিত্তি করে বইটি লেখা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন এই প্রকাশনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।
তার একটি বিখ্যাত গল্প ‘দ্য বিয়ার কেম ওভার দ্য মাউন্টেন’-নিয়ে ২০০৬ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। এতে জুলি ক্রিস্টি ও গর্ডন পিনসেন্ট অভিনয় করেছিলেন।
আজীবন কৃতিত্বের জন্য ২০০৯ সালে মানরো আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার (ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার) লাভ করেন। তার শেষ গল্প সংকলন ‘ডিয়ার লাইফ’- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। এটিতে আংশিক-আত্মজীবনীমূলক গল্পের সংকলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।