দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, স্পা, ট্রায়াল রুম বা পাবলিক টয়লেটে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনে নজরদারির অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অসাধু ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চেষ্টা করতে পারে। তবে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়ে।
ফোনে কথা বলার সময় অস্বাভাবিক শব্দ
কিছু বেতার (ওয়্যারলেস) ডিভাইস রেডিও সিগন্যালের কারণে ফোন কলে ‘বিপ’, ‘ক্র্যাক’ বা অস্বাভাবিক শব্দ সৃষ্টি করতে পারে। ঘরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলুন। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে এমন শব্দ হলে সেটি খতিয়ে দেখুন। তবে মনে রাখতে হবে, অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকেও এ ধরনের শব্দ হতে পারে।
আয়নার সামনে আঙুল ছুঁইয়ে দেখুন। যদি প্রতিফলনে আঙুলের সঙ্গে কোনো ফাঁক না দেখা যায়, তাহলে সেটি নিয়ে সন্দেহ হতে পারে। তবে এ পদ্ধতি সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়। সন্দেহ হলে আয়নার চারপাশ ও পেছনের অংশও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
ঘরের আলো নিভিয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে অ্যালার্ম ক্লক, ধোঁয়া শনাক্তকারী (স্মোক ডিটেক্টর), চার্জার, শো-পিস, ভেন্টিলেশন বা অন্যান্য ছোট ডিভাইস পরীক্ষা করুন। ক্যামেরার লেন্সে আলো পড়লে ছোট একটি প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর তালিকা দেখা যেতে পারে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক ডিভাইসের নাম চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে সব গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে না।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে, যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা কিছু ক্ষেত্রে ম্যাগনেটিক সিগন্যাল শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এসব অ্যাপ সহায়ক হতে পারে, তবে শতভাগ নির্ভুল নয়।
অনেক নাইট ভিশন ক্যামেরায় ইনফ্রারেড এলইডি থাকে। অন্ধকার ঘরে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে চারপাশ স্ক্যান করলে কিছু ক্ষেত্রে ছোট লালচে বা বেগুনি আলোর বিন্দু দেখা যেতে পারে। তবে সব ফোনের ক্যামেরা ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত করতে সক্ষম নয়।
হোটেল বা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
প্রয়োজন হলে কক্ষ পরিবর্তনের অনুরোধ করুন।
কোনো সন্দেহজনক ডিভাইস নিজেরা নষ্ট না করে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কৌশল গোপন ক্যামেরা শনাক্তে সহায়ক হতে পারে, তবে কোনো পদ্ধতিই শতভাগ নিশ্চিত নয়। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।