দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানুষের এই গাছ-ঘর বা ট্রিহাউসের প্রতি আকর্ষণ বহু পুরোনো। জোহান ডেভিড উইসের জনপ্রিয় উপন্যাস দ্য সুইস ফ্যামিলি রবিনসন (১৮১২)-এর পরিবার যেমন এক নির্জন দ্বীপে গাছের ডালপালায় ঘর বানিয়ে বাস করেছিল, তেমনি ১৮৪৮ সালে প্যারিসে দেখা যায় ‘গুয়িঙ্গেত দ্য রবিনসন’—রেস্টুরেন্ট, যেখানে মানুষ গাছের উপরে খাওয়াদাওয়া করত, যেন এটি অন্য এক কল্পনার দুনিয়া।
সময় বদলেছে, কিন্তু গাছের সঙ্গে মানুষের টান বদলায়নি। আধুনিক স্থপতিরা এখন নতুনভাবে ফিরিয়ে এনেছেন সেই পুরনো ভাবনাকে। তার বইয়ে স্থান পেয়েছে এমনই ৫টি আধুনিক ট্রিহাউস—যেখানে প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা আর প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য মিলেমিশে তৈরি করেছে এক নতুন বাসযোগ্য স্বপ্ন।
বিবিসি এ ধরনের ৫ টি দৃষ্টিনন্দন ট্রি হাউসের একটি তালিকা করেছে। তালিকা অনুযায়ী ট্রি হাউসগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১.পিগনা ট্রি হাউস দৃষ্টিনন্দন ট্রি হাউসের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে পিগনা ট্রি হাউস। ২০১৭ সালে বেলত্রামে স্টুডিওর তৈরি এ ট্রি হাউসের অবস্থান ইতালির মালবরগেতোতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে দুটি ট্রিহাউস রয়েছে। এগুলো তিনটি স্তরে নির্মিত, যা মাটি থেকে প্রায় দশ মিটার উচ্চতায় উঠে গেছে। প্রথম স্তরটি মাটি থেকে চার মিটার ওপরে অবস্থিত এবং এটি একটি প্যানোরামিক ঢাকা বারান্দা হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় স্তর পর্যন্ত সিঁড়ি উঠে আসে, যা ‘পাইনকোন’-এর আকৃতি অনুসরণ করে তৈরি একটি কাঠামোগত খাঁচার ভেতর দিয়ে উপরে উঠে গেছে। এখানেই দুটি বড় স্লাইডিং জানালার মাধ্যমে ভেতরের অংশে প্রবেশ করা যায়।

২. বের্ট ট্রি হাউস তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বের্ট ট্রি হাউসটির অবস্থান অস্ট্রিয়ায়। ২০১৮ সালে স্টুডিও প্রেখটের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস প্রেখট এটি তৈরি করেছেন। ঘরটির বড় গোলাকার জানালা একে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন এটি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মিনিয়নস’-এর একচোখো চরিত্রটির মতো দেখতে। অভ্যন্তরীণ নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি অল্প আলোযুক্ত ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। ঘরের বড় গোলাকার জানালা ও ব্যালকনিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কোনো কার্টুন চরিত্রের চোখের মতো দেখতে হয় এবং সেগুলো দিয়ে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ফ্রেমের মতো ধরা পড়ে।

৩. কিইউন মাউন্টেন ইউএফও কিইউন মাউন্টেন ইউএফও নামের এই ট্রি হাউসটির অবস্থান চীনে। ২০২২ সালে চীনের কিইউন ন্যাশনাল পার্কে একটি উড়ন্ত সসারের মতো করে ট্রি হাউসটি তৈরি করা হয়। ট্রি হাউসটি একটি টিলার পরিবেশে অবস্থিত। এখানে প্রচুর গাছ একসাথে ঘনভাবে জন্মেছে, যার ফলে একটি বৃহৎ পাইন বন তৈরি হয়েছে, যা বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। একবার এই পরিবেশে প্রবেশ করলে, মানুষ যেন সবুজ স্বপ্নে ডুবে যায়। সকালবেলা শিশিরের এবং মাটির সুন্দর তাজা সুবাস বাতাসে ভেসে আসে। চারপাশের শোরগোল আর শোনা যায় না, শুধু দূরের পর্বতের উপর ভেসে থাকা সাদা মেঘগুলো চোখে পড়ে।

৪. দ্য ট্রিলিয়াম দ্য ট্রিলিয়াম নামের ট্রি হাউসটির অবস্থান মেক্সিকোর ইউকাটানে। ২০২৪ সালে তিন পাপড়ির ফুল ট্রিলিয়ামের আকৃতিতে এটি তৈরি করা হয়েছে। ট্রি হাউসটির নামকরণও হয়েছে ফুলটির নামে। গাছের ওপরে বসবাস করতে গেলেই যে জীবন থেকে বিলাসিতা বাদ দিয়ে দেওয়াটা জরুরি নয়, তার উদাহরণ এ ট্রিলিয়াম ট্রি হাউস। সেখানে রয়েছে নিজস্ব সুইমিংপুল ও হট টাব। প্রচলিত কারুকাজ ব্যবহার করে হাতে তৈরি এই ঘরে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাওয়েকেনিং এক্সপেরিয়েন্সিয়াস নামের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে।

৫.বায়োস্ফিয়ার ট্রি হাউস ২০২২ সালে সুইডেনে বনের ভেতর গাছের ওপর তৈরি করা হয়েছে বায়োস্ফিয়ার নামের ট্রি হাউসটি। কাচের তৈরি এ ট্রি হাউসে আছে ৩৫০টি পাখির ঘর। এগুলো শুধু পাখিই নয়, বাদুড় ও মৌমাছিকেও আকৃষ্ট করে। বায়োস্ফিয়ার কাঠামোটি সুইডিশ লাপল্যান্ডের ট্রি হোটেলের অংশ। ট্রি হোটেল হলো আটটি ভিন্ন ধরনের নকশায় তৈরি একগুচ্ছ ট্রি হাউস। পাখির আবাস হারানোর বিষয়টি মাথায় রেখে একজন পাখি বিজ্ঞানীর পরামর্শে এটি তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি