দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শীত এলেই সর্দি-কাশি, জ্বরের পাশাপাশি আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যসমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে— আর তা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেকেই এটিকে তেমন গুরুতর বলে মনে না করলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই সমস্যা শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
কেন শীতে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে—
১. পানি কম পান করা: শীতে তৃষ্ণা কম লাগে, ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে মল শক্ত হয়ে যায়।
২. ঘাম কম হওয়া: গরমকালে ঘামের মাধ্যমে শরীরের বর্জ্য বের হলেও শীতে সেই প্রক্রিয়া কমে যায়।
৩. শাকসবজি ও ফল কম খাওয়া: শীতে অনেকেই আঁশযুক্ত খাবার কম খান।
৪. শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া: ঠাণ্ডার কারণে হাঁটা বা ব্যায়াম কমে যায়, যা অন্ত্রের গতিশীলতা কমায়।
৫. চা-কফির অতিরিক্ত গ্রহণ: শীতে গরম পানীয় বেশি খাওয়াও ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনকারীরা শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যে বেশি ভোগেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।
উপসর্গ কী কী?
মলত্যাগে কষ্ট বা ব্যথা, শক্ত ও শুষ্ক মল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি, মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি।
চিকিৎসকের পরামর্শ
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা বলছেন, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এ সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এছাড়া প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান, খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম, সকালে নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাসও কোষ্ঠকাঠিন্যে ঝুঁকি কমায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন।
চিকিৎসকদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্যকে অবহেলা করলে পাইলস, ফিশার কিংবা অন্ত্রের অন্যান্য জটিল রোগ হতে পারে। তাই শীতকাল এলেই খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনে সচেতন হওয়া জরুরি।
শীত উপভোগের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের এই নীরব সংকেতটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এবি/