দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্যানসার একটি জটিল ও বহুমাত্রিক রোগ, যার পেছনে বংশগত কারণ থাকলেও জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণা বলছে, মোট ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই বাহ্যিক কারণজনিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর উপাদান।
হেলথলাইনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও গবেষকরা এমন ছয় ধরনের খাবারের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে ক্যানসারের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
১. প্রসেসড মাংস:
ধূমায়িত, লবণাক্ত, সংরক্ষিত কিংবা ক্যানজাত করা মাংস—যেমন সসেজ, সালামি, হটডগ বা বিফ জার্কিতে এন-নাইট্রোসো যৌগ ও পিএএইচ নামের কার্সিনোজেন তৈরি হয়। এসব উপাদান কোলন, পাকস্থলী ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. ভাজাপোড়া খাবার:
আলু ভাজা, চিপস, চপ বা পাকোড়ার মতো স্টার্চ জাতীয় খাবার বেশি তাপে ভাজার সময় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই রাসায়নিকটি ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কোষ ধ্বংসের মাধ্যমে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়।
৩. অতিরিক্ত সেদ্ধ বা পোড়া খাবার:
মাংস অতিরিক্ত আগুনে গ্রিল, বারবিকিউ বা প্যান ফ্রাই করলে পিএএইচ ও এইচসিএ নামক ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। এসব যৌগ কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বারবার পোড়া বা অতিরিক্ত সেদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস মোটেই নিরাপদ নয়।
৪. দুগ্ধজাত খাদ্য:
দুধ, দই, চিজের মতো খাবার পুষ্টিকর হলেও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে এসব খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলে পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ দুগ্ধজাত খাদ্য দেহে আইজিএফ-১ হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে।
৫. চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট:
সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, কোমল পানীয়, সাদা ভাতের মতো খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এসব শারীরিক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা ক্যানসারের অন্যতম সহায়ক কারণ। বিশেষ করে ডিম্বাশয়, স্তন ও জরায়ু ক্যানসারের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
৬. অ্যালকোহল:
অ্যালকোহল শরীরে ভেঙে অ্যাসিট্যালডিহাইডে পরিণত হয়, যা পরিচিত কার্সিনোজেন। এটি ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
যে খাবারগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে-
বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আঁশ ও ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ফল ও সবজি: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। বাদাম: প্রদাহ কমিয়ে প্রতিরোধে সহায়তা করে। ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: আঁশ কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে। হোল গ্রেইন: যেমন ব্রাউন রাইস বা কুইনোয়া, যা কোষ সুরক্ষায় সহায়ক। মাছ: ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায় এবং কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।
প্রসেসড খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, চিনি ও অ্যালকোহল কমিয়ে এনে ফল, সবজি, হোল গ্রেইন ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন বাড়ানো ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি। সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে জরুরি।
কে