দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোষ্য প্রাণী হিসেবে বিড়ালের বেশ কিছু বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। কুকুরের মতো অতটা প্রভুভক্ত না হলেও বিড়াল পরিচ্ছন্ন, শান্ত ও বুদ্ধিমান। এর সান্নিধ্য মানসিক চাপ কমাতে এবং মন ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গবেষণা বলছে, বিড়ালের উপস্থিতি মানুষের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায়। পাশাপাশি সেরোটোনিন, ডোপামিন ও অক্সিটোসিন বাড়ায়, যা আনন্দ ও প্রশান্তি এনে দেয়। ছোট বাসা বা অ্যাপার্টমেন্টে সহজেই রাখা যায় বলে বিড়াল শহুরে জীবনের জন্যও উপযোগী।
ব্রিটিশ লেখক মারলনের মতে, বিড়াল একটি স্বাধীনচেতা প্রাণী, যা নিজেই নিজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যত্ন নিতে পারে। এজন্য প্রতিদিন খুব বেশি সময় বা পরিশ্রম দিতে হয় না। তুলনামূলকভাবে কম অ্যালার্জেন ছড়ানোয় অ্যালার্জি-প্রবণ মানুষের জন্যও বিড়াল বেশ উপযোগী।
২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, বিড়াল মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে—যারা বিড়াল পালন করেননি, তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বিড়াল পালনকারীদের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।
এছাড়া ২০২৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ বিড়াল মালিক মনে করেন তাদের পোষ্য মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেকেই জানিয়েছেন, বিড়াল একদিকে একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা কমায়, অন্যদিকে সঙ্গী হিসেবে পরিবারে বিশেষ জায়গা দখল করে নেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, বিড়াল পালন করতে হলে নিয়মিত টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যত্নশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মানুষের জীবনে যেমন কথোপকথনের সঙ্গীর প্রয়োজন হয়, তেমনি কখনো কখনো নিঃশব্দে পাশে থাকা একটি বিড়ালও হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।
আরএ