দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আপনার আশেপাশে কেউ হাই তুললে কি আপনারও হাই ওঠে? অনেকের ক্ষেত্রেই কিন্তু এমনটা ঘটে। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন এটা কেন হয়? কিংবা কাদের সঙ্গে বেশি হয়? মানুষ স্বভাবগতভাবেই অনুকরণপ্রিয়। একে অন্যকে দেখে আমরা কতো কিছুই না করি। এমনকি অন্যকে হাই তুলতেও দেখলে, অনেকেই হাই তুলতে শুরু করেন। আর এমন ঘটনা সবার সঙ্গেই ঘটে।
তবে এমন হওয়ার কারণ হয়তো অনেকেই জানেন না। তাহলে চলুন সেসব কারণ জেনে নেওয়া যাক:
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই তোলা এক ধরনের ‘সোশ্যাল বিহেভিয়ার’। এটা হওয়ার মূল কারণ আমাদের শরীরে মিরর নিউরোনের ভূমিকা। সামাজিক ভাবে মানুষ ভালোবাসে,দলবদ্ধ আচরণ করতে। তাইতো আদিমকাল থেকেই মানুষের অভ্যাস দলগত ভাবে শিকারে যাওয়া, ঘুমানো-সহ নানা কিছু করা । হাই তোলা তারই প্রতিফলন।
শুধু হাই তোলা নয়। বরং আপনি চারপাশে খেয়াল করলে এমন সোশ্যাল বিহেভিয়ারের আরও অনেক উদাহরণ খুঁজে পাবেন। যেমন নাটক-সিনেমাতে কাউকে আঘাত করার দৃশ্য দেখলে তাতে ব্যথা অনুভব করেন, চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। আবার কাউকে হাসতে দেখলে নিজে নিজেই আপনার চেহারায় হাসি চলে আসে। এর মানে অন্যের খারাপলাগা, ভালোলাগা আমাদের ছুঁয়ে যায়। হাই তোলা তেমনই একটি উদাহরণ।
হাই তোলার বিষয়টি কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ নিয়ে জুরিখে শিম্পাঞ্জিদের ওপর গবেষণা করা হয়েছিল। যেখানে তাদের হাই তোলার ভিডিও দেখানো হয়। তাতে পাঁচ-ছয়জন বসে হাই তুলছিল। আর সেই ভিডিও দেখে শিম্পাঞ্জিগুলোও হাই তুলতে থাকে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ দলগতভাবে চিন্তাভাবনা করে কাজ করতে পছন্দ করে। বহু যুগ ধরেই এমনটা চলে আসছে। দলবদ্ধভাবে শিকার করা বা ঘুমাতে যাওয়া, ভোরবেলায় একসঙ্গে ওঠার মতো বিষয়গুলো এখন আর নেই যদিও। তাই সচেতনভাবে আমরা এমনটা না করলেও আমাদের অবচেতনে বা জিনের মধ্যে এগুলো রয়ে গেছে। হাই ওঠাকে ঘুম আসার লক্ষণ মনে করা হয়। একটা সময় এমনটা ছিল ঘুমাতে যাওয়ার নির্দেশ। তাই অন্যকে হাই তুলতে দেখলে অজান্তেই আমাদের হাই ওঠা শুরু হয়।
এস