দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মা মানেই শান্তির আশ্রয়! মায়ের স্নেহ, আদর ও ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। প্রতিটি মানুষের জীবনে নানা বাধা আসে। কিন্তু, তা অতিক্রম করার সাহস জোগান একজন মা। সব অন্ধকার দূরে সরিয়ে রেখে, পরিবারের জন্য জীবন উজাড় করে দেন মায়েরা। তাদের উপস্থিতি শুধু একটি পরিবারকে সমৃদ্ধ করে তুলে না, বরং অনুপ্রেরণাও জোগায়। একটি শিশু যখন পৃথিবীর আলো দেখে তখন তার মুখে প্রথম শব্দ ফুটে ওঠে মা।
আজ ১২ মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছরই ক্যালেন্ডার ধরে দিবসটি আসে। এই দিনে মায়ের জন্য বিশেষ কিছু আয়োজন করে থাকেন সন্তানরা। তাকে ধন্যবাদ জানান, ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেন। এই দিবসে মাকে খুশি করতে চাইলে তাকে চমকে দেওয়ার মতো কিছু করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী:
মায়ের পছন্দের জিনিসপত্র দিয়ে একটি গিফট বাস্কেট বানিয়ে নিন। পছন্দের চকলেট, খাবার, পারফিউম, বিস্কুট ও প্রসাধনীর সমন্বয় থাকতে পারে। অনেক দিন ধরেই হয়তো মা ছোট ছোট কিছু জিনিস কিনতে চাচ্ছেন কিন্তু, নানা অজুহাতে কেনা হয়ে উঠছে না। সেসব মাথায় রেখে বাস্কেট সাজান। সাজানোর সময়েও নিজের যত্নবান চরিত্রের পরিচয় দিন। তার আগে মায়ের পছন্দ জেনে নিন। এরপর সে অনুযায়ী উপহার কিনে আনুন। এতে আপনার মা খুব খুশি হবেন।
মাকে এই বিশেষ দিনে চমকে দেওয়ার গুরুত্ব আলাদা। খুব সাধারণ কিছু দিয়েই কিন্তু সেটি করা যায়। অনেক সময় কাজের চাপে তিনি হয়তো নিজের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গেও যোগাযোগের সময়টুকুও পান না। তাই তাকে খুশি করতে একটি সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করলে কিন্তু মন্দ হয় না। আর সেই পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানান মায়ের পছন্দের বন্ধু-বান্ধব ও পছন্দের মানুষদের।
আবার পরিবারের সবাই মিলেই এই দিনটিতে একত্রিত হয়ে আসর বসিয়ে দিতে পারেন। দেখবেন এতে সবারই ভালো লাগবে। মা যদি গল্প বা হাদিসের বই পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে তার পছন্দ মতো বই উপহার দিতে পারেন। এতে তিনি খুব খুশি হবেন। চমকে দেওয়ার জন্য বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। শুধু একটু যত্নবান হলেই হবে।
ব্যস্ত জীবনে সন্তানদেরও অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ হয় না মাকে সময় দেওয়ার। তবে এই দিনটিতে মাকে একটু সময় দিন। কোথাও বেড়াতে যান বা শপিং করতে যান। তার সঙ্গে গল্প করুন। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিন। আপনার ও মায়ের ছোটবেলার স্মৃতি এগুলো নিয়ে আলাপ করুন। দেখবেন, কত ভালো সময় কাটে।
আর কেবল আজকের দিনটিতেই কেন, সারা বছরই মাঝেমধ্যে এই কাজগুলো করতে পারেন। তাতে আপনার মা আরও বেশি খুশি হবেন। কারণ মায়েরা সময়ই প্রত্যাশা করেন। কোথাও ঘুরতে নিয়ে গেলে তাদের অনেকেই নিজেদের কিছুটা বিশেষ ভাবেন। সন্তানদের কারো সময় নেই এ অভিযোগ তো তাদের বহু পুরনোই। অন্তত এই অভিযোগটি নিয়ে এবার আপনাদের ব্যতিব্যস্ত হতে হবে না।
মায়েরা সাধারণত খুব গোছানো হন। ঘরের সব কাজের পরিকল্পনা তাদের আগে থেকেই মোটামুটি তৈরি করা থাকে। সেটি একটু খেয়াল করুন। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আজকের দিনে কাজগুলো আপনারাই সেরে ফেলুন। দেখবেন, মা কীভাবে চমকে যান।
বছরের প্রতিটা দিনই আপনার মা আপনাদের রান্না করে খাওয়ান। ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার নিজের হাতে তারা রান্না করেন। এই দিনটিতে না হয় সন্তানরা মাকে তার পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ান। এভাবে আপনার মাকে উপহার দিতে পারেন। বাড়ির কাজে মাকে আর যুক্ত হতে দেবেন না। দেখবেন আপনার মা নিজেকে বিশেষ ভাববেন। হয়তো একটু আধটু রাগ করবেন। সেটাও অন্তত মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর অনুষঙ্গ।
সন্তান দূরে থাকতেই পারে। প্রতিবার মা-ই খোঁজ নেন। এবার তাহলে ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে আপনিই গল্প করুন কিছুক্ষণ। আজকাল অনলাইনেই গিফট পাঠানো যায়। কোনো একটা গিফট অর্ডার করে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে থাকুন। গিফট আসার পর হেসে মাকে চমকে দেওয়া মুখটা দেখুন। বুঝিয়ে দিন আপনি দূরে আছেন মাকে ছেড়ে কত কষ্টে, আপনি আপনার মাকে কতটা ভালোবাসেন সেই কথাগুলো আপনার মাকে আপনি চিঠিতে লিখে স্পিড পোস্ট করতে পারেন। সেই সঙ্গে মাকে সুন্দর উপহারও দিতে পারেন।
উপহার থেকে আপনার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশই মাকে বেশি খুশি করবে। মাকে নিয়ে পোস্ট করা কিংবা মাকে আপনার লেখা অনলাইন সংস্করণের চিঠিও তাকে অনেক খুশি করতে পারে। এ বিষয়গুলো ভেবে রেখেই মা দিবসের পরিকল্পনা সাজান।
এস