দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘বন্ধু’ আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি মানসিকভাবে ভালো থাকাটাও অনেকাংশে নির্ভর করে। তবে বেশিরভাগ পুরুষ তার জীবনে তেমন কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানাতে পারেন না।
আর এমনটা হয়ে থাকে সমাজের কিছু মানুষের বিকৃত মানসিকতার কারণে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো কী কারণে পুরুষের কাছের বন্ধু কম থাকে। চলুন জেনে নিই-
‘সার্ভে সেন্টার অন আমেরিকান লাইফ’-এর ২০২১ সালে করা জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন ডটকম জানায়, জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও কম পুরুষ জানিয়েছে তারা বন্ধুত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট। আর ১০ জন নারীর মধ্যে চার জনের তুলনায় পুরুষদের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, তিনি গত সপ্তাহে মানসিক সহায়তা পেয়েছেন বন্ধুর কাছ থেকে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ‘বয়েজস সাইকোলজি ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে পাঠদান করা শিক্ষক ওয়াই চুং চু সিএনএন ডটকমকে বলেন, পুরুষদের বন্ধুর সংখ্যা কমতে শুরু হয় মধ্য বয়স থেকে। আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এর পরিমাণ সম্পূর্ণ রূপে বাড়তে থাকে। তারপরও যারা থেকে যায় তাদের মধ্যে নারীদের তুলনায় মানসিক আন্তরিকতা খুবই কম থাকে।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অ্যাপ্লাইড সাইকোলজির শিক্ষক ড. নাইয়োবি ওয়ে বলেন, মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা ছেলেরা শুরু করে না, বরং হয়ে যায়।
নিউজার্সির রিজউড নিবাসী মনোবিজ্ঞানী ডা. ফ্র্যাঙ্ক সিলিও জানান, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আন্তরিক বন্ধুর প্রয়োজন রয়েছে। আর যেসব পুরুষ এই সম্পর্কের জন্য যুদ্ধ করেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর সমস্যায় ভুগছেন- সেটা হল ‘একাকিত্ব’।
তবে তিনি এ বিষয়ে আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক কষ্ট প্রকাশের মাধ্যমে পুরুষদের মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তাদের বোঝার ক্ষমতা বেড়েছে এবং একাকীত্ব বোধ করার বিষয়টাও কমেছে।
যে কারণে পুরুষদের কাছের বন্ধু তৈরিতে বাধা আসে
১৯৯৫ সালে সিলিও ‘পুরুষের বন্ধুত্ব’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তখন সেখানে অংশগ্রহণ করা অনেকে ভেবেছিল এই জরিপ সমকামিতা নিয়ে করা হয়তো। এই ধরনের চিন্তাধারা প্রাকৃতিকভাবেই ঠিক না। তবে তিনি জানান, এর ফলে একটা বিষয় উঠে আসে যে- এই কারণেই পুরুষরা পুরুষদের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব গড়া থেকে পিছু হটে।
সিলিও আরও বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর এই অনুমানের ভিন্নতা এসেছে। বরং সামাজিক চাপের কারণে পুরুষদের আন্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্র কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ড. ওয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা সকলেই দুটো দিক নিয়ে জন্মাই। একটা হলো কঠিন দিক, যেখানে আমরা আত্মনির্ভরশীল ও আত্মনিয়ন্ত্রিত। অন্যটা হলো নরম দিক, যেখানে আমরা ভঙ্গুর ও পরনির্ভরশীল। কঠিন দিকটা সাধারণত পুংলিঙ্গের আর নরম দিকটা স্ত্রীলিঙ্গের হিসেবে ধরা হয়।
ছেলেদের বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তাদের বোঝানো হয়, পুরুষ হতে হবে। তাদের নরম হতে নেই। শক্ত থাকতে হবে। আর এই ধরনের চিন্তাধারা মানসিক উন্নতির ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তবে চু বলেন, আমরা বিষয়টা মেয়েলি হিসেবে চিহ্নিত করি। দুর্বলতা বা পরনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের প্রয়োজন মনে করলে পুরুষকে মেয়েলি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
সিলিও বলেন, এভাবে লিঙ্গভিত্তিক চারিত্রিক বিশ্লেষণের পরিষ্কার প্রভাব পড়ে পুরুষের ওপর। ফলে আবেগ প্রকাশে বাধাগ্রস্ত হয়ে শক্তি প্রকাশের দিকে নজর দেয় তারা। আর যে যত বেশি এই দিকে নজর দেয় তার কাছের বন্ধুও হয় কম।
এ নিয়ে ডা. ওয়ে বলেন, পুরুষরা কঠিন হতে গিয়ে যখন পরনির্ভরশীলতা থেকে দূরে থাকে তখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকেও দূরে সরতে থাকে। ফলে তার মধ্যে দেখা দেয় একাকিত্ব, রাগ ও সহিংসতা।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা এমন এক সংস্কৃতিতে বাস করছি যা প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা যদি সন্তানদের প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে লালন-পালন করি তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, এদের মধ্যে কেউ কেউ কষ্ট করে বেড়ে উঠবে।
এস/ডিপি/