দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাজ জীবনের অপরিহার্য অংশ। জীবনের প্রয়োজনে আমাদের কাজ করা হয়। কাজ মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। তবে, অনেক সময় বিভিন্ন কারণে কাজে অনীহা তৈরি হয়। ভর করে হতাশা। এই হতাশা ঘনীভূত হতে হতে এক সময় তৈরি হয় গাঢ় বিষণ্ণতা। কর্মক্ষেত্র আবেদন হারায়। ভালো লাগে না অফিসে যেতে। কর্মক্ষেত্রের এই বিষণ্ণতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ব্যক্তিজীবনে।
একঘেয়ে কাজ করতে করতে মাঝে মধ্যে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। তবে সবক্ষেত্রেই যে পেশা বদল একমাত্র সমাধান এমনটা নয়। দৈনন্দিন কাজের চেনা ছক ভেঙে অফিসের সময়টুকু মনের মতো করে উপভোগ করতে চান? প্রতিদিনের কাজে একঘেয়েমি জয় করতে আপনার মনের মতো কয়েকটি সমাধান।
কী করবেন:
রুটিনের কাজের বাইরে কোনও নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো একটু বেশি সময় কাজ করতে হবে। কাজ নিয়ে মাথাব্যথাও বাড়বে আপনার, কিন্তু একঘেয়েমি কাটাতে এবং নতুন কাজ শেখার ক্ষেত্রে এর থেকে ভালো উপায় খুব কম রয়েছে।
আপনার অফিসের পরিবেশ যদি খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ না হয় তবে আপনি নিজের সঙ্গেই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে নিন। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন নতুন নতুন লক্ষ্য দিয়ে। এতে আপনার একঘেয়েমি কমে যাবে। কাজে আগ্রহ বাড়বে। ফলে বিরক্ত লাগার মতো সময় পাবেন না। নতুন নতুন অনেক কিছুই শিখতে পারবেন।
একটানা কাজ করলে একঘেয়েমি লাগবেই। তাই একটানা কাজ না করে ছোট ছোট বিরতি নিন। কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ বিরতি নিলে মন প্রফুল্ল হবে। মাথা কাজ করবে ভালোভাবে। তাই একটানা কাজ না করে ১৫-২০ মিনিট পর পর একটু বিরতি নিন। এছাড়া একটানা বসে কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
যখন মনে হবে একঘেয়ে এবং বিরক্ত লাগছে তখন মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। চাইলে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কিংবা নিজের মুঠো ফোনে নিজের পছন্দের কিছু গান শুনে নিন। সঙ্গে হেডফোন রাখবেন যাতে অফিসের অন্যান্যদের কোনও সমস্যা না হয়। দেখবেন মনোযোগ অন্যদিকে সরে গেলে বিরক্তি কেটে যাবে।
যতোটা সম্ভব সহকর্মীদের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করুন। কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বিরক্তি এবং একঘেয়েমি দুটোই কাটাতে পারবেন। এছাড়া সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে অফিসের পরিবেশও সহজ হয়ে আসবে। তখন অফিসকে এতো বেশি বিরক্তিকর মনে হবে না।
যে সময়টা একটু অবসরে থাকবেন নিজের কাজের ভালো এবং খারাপ দিকগুলোর দুটো তালিকা বানান। নিজে কাজে পরিষ্কার থাকুন, একঘেয়েমি মোকাবিলা করতে পারবেন।
যে জায়গায় বসে একটানা কাজ করতে হয়, সেটা বেশ সাজানো গোছানো থাকলে মন ভালো থাকতে বাধ্য। নিজের ডেস্কের ওপর এমন কিছু রাখুন যা আপনার মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। হতে পারে কোনও ছবি, পছন্দের কোনও জিনিস অথবা প্রিয়জনের স্মৃতিবিজড়িত কিছু যা আপনার বিরক্তি নিমিষে দূর করে মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আশা করি বিরক্তি কেটে যাবে।
অফিসের কাজের ফাঁকে অবসর সময় বা দুপুরের খাবার সময় নিজের পছন্দের যেকোনো একটা কাজ করুন। যেমন— গান শোনা, ম্যাগাজিন পড়া। আপনার প্রতিদিনের কাজের আওতার বাইরে যেকোনো একটা নতুন কাজ আয়ত্তে আনুন।
নিজের কাজ করতে করতে অন্য কোনও সহকর্মীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। কাজে একটু রদবদল আসবে। সেই সঙ্গে অন্যকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, সেটাও পুরো মাত্রায় লাভ করবেন।
যেদিন কাজের চাপ একটু কম থাকবে, অফিসের প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ুন।
প্রতিদিন অফিসে পৌঁছে ১০-১৫ মিনিট বরাদ্দ করুন ওয়ার্ক-স্টেশন পরিষ্কার করার জন্য। ঝকঝকে ডেস্কে বসে কাজ করার মজাই আলাদা।
এস/জেডএ