দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অফিসে কাজের মাঝে, বন্ধুদের আড্ডায়, উৎসব-অনুষ্ঠানে মাঝেমধ্যেই কানে আসে ‘মটমট’ শব্দ। আঙুল ভাঁজ করে মটমট শব্দ করা অনেকেরই নিত্য অভ্যাস। যারা এমনভাবে আঙুল মুড়িয়ে শব্দ করেন, তাদের স্বস্তি হলেও অনেকেই বিরক্তির চোখে দেখেন বিষয়টি। অনেকের মতে, এই আচরণ আলসেমির প্রকাশ। কেউ কেউ বলেন, আঙুল ফোটানোর ফলে ভবিষ্যতে বাতের সমস্যা হওয়ারও ঝুঁকি থাকে।
কিন্তু আঙুল ফোটানোর অভ্যাস সত্যিই কি শরীরের বিপদ ডেকে আনে?
আর্থারাইটিস অ্যান্ড রিউম্যাটিজম জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, আঙুল ফোটানোর সঙ্গে বাত হওয়ার কোনও রকম সম্পর্ক নেই। আঙুলের অস্থিসন্ধিতে তরল পদার্থ জমা থাকে। আঙুল ফোটানোর সময়ে অস্থির মাঝে ফাঁক বেড়ে যায়। ওই ফাঁকে বুদবুদ সৃষ্টি হয়। বুদবুদগুলোতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড পূর্ণ থাকে। গ্যাসে পরিপূর্ণ সেই বুদবুদগুলো ফেটে গিয়েই মটমট শব্দ আসে।
ফিলাডেলফিয়ার রথম্যান ইন্সটিটিউটের হাত ও কবজির চিফ অব সার্জারি ডা. পেদ্রো বেরেজিকলিয়ান বলছেন, আঙুল টানাটানি কিংবা ফোটানোর সঙ্গে শরীরের হাতের ক্ষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, আঙুল ফোটানোর অভ্যাস অনেক বিস্তৃত। যদি ক্ষতিকরই হতো, তবে এ নিয়ে অনেক রিপোর্টই পাওয়া যেত। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। তাই হাড়ে সমস্যা কিংবা বাতের সঙ্গে আঙুল ফোটানোর কোনো সম্পর্ক নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ার একজন চিকিৎসক নিজের ওপরই এ নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন। তিনি সাধারণত নিজের একটি হাতের আঙুলই ফোটাতেন। দীর্ঘদিন ওই আঙুল ফোটানোর কারণে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য তিনি এক্স-রে করেন। তবে কোনো সমস্যাই ধরা পড়েনি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ না আঙুল ফোটালে ব্যথা কিংবা ফোলা-ভাব দেখা দিচ্ছে, ততক্ষণ আঙুল ফোটালে কোনও সমস্যা নেই। এই অভ্যাসের কারণে আঙুলের জড়তা কাটে, আঙুলের নরম টিস্যুগুলো স্ট্রেচ হয়। তাই মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো বদভ্যাস নয়, বরং এতে শরীরের ভালোই হয়।
এই প্রসঙ্গে ভারতের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পাল জানান, আঙুল ফোটানোর সঙ্গে হাড় ক্ষয় হওয়ার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে অহেতুক চিন্তা করার দরকার নেই। মন চাইলে আঙুল ফোটাতেই পারেন। তবে এটি বদভ্যাসে পরিণত হলে কিন্তু জয়েন্টে আঘাত পেতে পারেন।
এস/এও