দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারা বছরই বাড়িতে চলে ফ্রিজ। গরমে ঠান্ডা পানি, খাবার সংরক্ষণ কিংবা আগের দিনের রান্না-সবকিছুতেই ভরসা এই যন্ত্রটি। কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে যদি খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়েন, তাহলে একবার ফ্রিজের সেটিংস পরীক্ষা করে দেখুন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা রাখা কিংবা কুলিং কন্ট্রোল ঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারণে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।
ফ্রিজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাবার নিরাপদ রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু সেটিংস বদলালেই হবে না, দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে।
ফ্রিজের যে ২ ভুল সেটিংস বাড়াতে পারে বিদ্যুৎ বিল
১. ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কমিয়ে রাখা
ফ্রিজের তাপমাত্রা যত কম, খাবার তত ভালো থাকবে এমন ধারণা ঠিক নয়। খাবার নিরাপদ রাখতে রেফ্রিজারেটরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উচিত।
অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও ফ্রিজের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে রাখেন। এতে ফ্রিজকে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি কাজ করতে হতে পারে, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে। তাই ফ্রিজে ১ থেকে ৫ কিংবা ১ থেকে ৭ পর্যন্ত সংখ্যা থাকলে সেগুলোকে সরাসরি তাপমাত্রা হিসেবে ধরে নেবেন না। সংখ্যাগুলোর অর্থ মডেলভেদে আলাদা হতে পারে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন এবং সম্ভব হলে থার্মোমিটার দিয়ে ভেতরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।
২. কুলিং কন্ট্রোল সব সময় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা
ফ্রিজের কুলিং কন্ট্রোল বা ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ঠিকভাবে ব্যবহার না করাও বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, কুলিং কন্ট্রোল সর্বোচ্চ স্তরে রাখলে খাবার দ্রুত ঠান্ডা থাকবে এবং ফ্রিজ ভালো কাজ করবে। কিন্তু সব পরিস্থিতিতে এমন সেটিং প্রয়োজন হয় না।
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঠান্ডা তৈরি করতে গেলে কিছু ফ্রিজে কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এর প্রভাব ফ্রিজের ধরন, মডেল, ঘরের তাপমাত্রা ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত সেটিং নির্বাচন করুন। সেটিং পরিবর্তনের পর ভেতরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল হতে কিছুটা সময় দিন।
শুধু সেটিং বদলালেই হবে না, মানতে হবে আরও কয়েকটি নিয়ম
ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল ঠিক রাখার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু অভ্যাসও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিচের ১২টি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি।
১. বারবার ফ্রিজের দরজা খুলবেন না। ২. গরম খাবার রাখবেন না। ৩. ফ্রিজের চারপাশে ফাঁকা জায়গা রাখুন। ৪. খাবার গাদাগাদি করে রাখবেন না। ৫. চুলা বা সরাসরি রোদের পাশে ফ্রিজ রাখবেন না। ৬. দরজার রাবারের সিল পরীক্ষা করুন। ৭. ফ্রিজের কয়েল ও বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখুন। ৮. দ্রুত ঠান্ডা করার ব্যবস্থা অপ্রয়োজনে চালু রাখবেন না। ৯. ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমলে ব্যবস্থা নিন। ১০. ফ্রিজের বয়স ও বিদ্যুৎ খরচের দিকে নজর দিন। ১১. ফ্রিজের ভেতরের খাবার নিয়মিত গুছিয়ে রাখুন। ১২. দরজা বন্ধ করার পর ঠিকমতো আটকে আছে কি না দেখুন।
বিদ্যুৎ বিল কমাতে মনে রাখুন
ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল সঠিকভাবে ব্যবহার করার পাশাপাশি এসব অভ্যাস মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু দুটি সেটিংস বদলালেই বিদ্যুৎ বিল নির্দিষ্ট হারে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সাশ্রয়ের পরিমাণ ফ্রিজের বয়স, মডেল, ঘরের তাপমাত্রা এবং ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।
কেএম