দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্ট্রোক বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে হঠাৎ পড়ে যাওয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। তবে সব স্ট্রোক এতটা নাটকীয়ভাবে শুরু হয় না।
অনেক সময় হাতের সামান্য দুর্বলতা, কথা বলার সময় হঠাৎ শব্দ না আসা, দৃষ্টির পরিবর্তন, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দিয়েও স্ট্রোকের শুরু হতে পারে। এসব লক্ষণকে অনেকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন।
নিউরোসার্জন ডা. সুমিত পাওয়ার বলেন, স্ট্রোকের প্রথম দিকের কিছু লক্ষণ এতটাই সূক্ষ্ম হতে পারে যে আক্রান্ত ব্যক্তি তা গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। মস্তিষ্ক শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, তার ওপর স্ট্রোকের লক্ষণও ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশভাব, দৃষ্টির সমস্যা, বিভ্রান্তি, কথা বলতে সমস্যা, মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য হারানোকে স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সাধারণ সমস্যার সঙ্গে মিল থাকায় হয় বিভ্রান্তি
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। যেমন, মাথা ঘোরাকে ঘুমের ঘাটতি, দুর্বলতাকে অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা দেখাকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফল এবং কথা বলতে অসুবিধাকে মানসিক চাপের কারণে হয়েছে বলে মনে হতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, এখানেই ঝুঁকি বেশি। কারণ উপসর্গটি কিছুক্ষণ পর চলে গেলে অনেকেই মনে করেন সমস্যা আর নেই। অথচ এটি ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক বা টিআইএ-এর লক্ষণও হতে পারে।
টিআইএতে স্ট্রোকের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও তা কিছু সময় পর পুরোপুরি সেরে যেতে পারে। কিন্তু উপসর্গ চলে যাওয়া বিপদ কেটে যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হিসেবে টিআইএ দেখা দিতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন বি.ই.এফ.এ.এস.টি (বি ফাস্ট)
স্ট্রোকের লক্ষণ মনে রাখার জন্য বি.ই.এফ.এ.এস.টি (বি ফাস্ট) পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে ব্যালান্স বা ভারসাম্য, আইজ বা চোখ, ফেস বা মুখ, আর্মস বা হাত, স্পিচ বা কথা এবং টাইম বা সময়।
অর্থাৎ হঠাৎ ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা দৃষ্টির পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। মুখ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। একটি মাত্র আকস্মিক ও অস্বাভাবিক স্নায়বিক উপসর্গও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত হতে পারে।
উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন
হঠাৎ কথা, দৃষ্টি, হাত-পায়ের নড়াচড়া বা ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিলে কখন উপসর্গ শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
ডা. পাওয়ার বলেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত রোগীর চিকিৎসা মূল্যায়ন করা যায়, তত দ্রুত স্ট্রোকের ধরন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই হঠাৎ দেখা দেওয়া কোনো স্নায়বিক পরিবর্তন কতটা হালকা মনে হচ্ছে, তা দিয়ে এর গুরুত্ব বিচার করা উচিত নয়। কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়া উপসর্গও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মূল্যবান সময় হারিয়ে যেতে পারে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএম