দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে বাজারে জনপ্রিয় হয়েছে ব্লু-লাইটের চশমা। চোখের ক্লান্তি কমানো থেকে শুরু করে স্ক্রিনের ক্ষতিকর আলো থেকে চোখ রক্ষার নানা দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এই চশমার বড় বাজারও তৈরি হয়েছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এসব দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ কতটা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ব্লু-লাইটের চশমা কি কাজ করে?
শার্প সাইট আই হসপিটালসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ফিরদৌস কৌসার বলেন, একই ধরনের স্ক্রিনের কাজ করা মানুষের মধ্যে একদলকে ব্লু-লাইটের চশমা এবং অন্যদলকে সাধারণ চশমা পরিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা করা হয়েছে। পুরো দিন একই ধরনের স্ক্রিনের কাজ করার পর দুই দলের চোখের ক্লান্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
ব্লু-লাইট আটকানোর চশমা নিয়ে করা একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে চোখের ক্লান্তি কমানোর ক্ষেত্রে সাধারণ চশমার তুলনায় এসব চশমার উল্লেখযোগ্য সুবিধার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চোখে ক্লান্তি আসে কেন?
বিশেষজ্ঞের মতে, স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তার মূল কারণ নীল আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গ নয়। পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ চোখের পাতা কম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে পলক ফেলে। এতে চোখের উপরিভাগ শুকিয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকলেও চোখের পেশিগুলোকে একটানা কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে স্ক্রিনের উচ্চতা ঠিক না থাকা, চোখ থেকে পর্দার দূরত্ব সঠিক না হওয়া কিংবা এক-দুই বছর পুরোনো চশমার নম্বর ব্যবহার করার মতো বিষয়ও চোখের ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
অর্থাৎ, স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখে যে অস্বস্তি বা ক্লান্তি দেখা দেয়, তার প্রধান কারণ নীল আলো নয়।
ঘুমের ক্ষেত্রে কি কোনো ভূমিকা আছে?
তবে সন্ধ্যার নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন নিঃসরণ কমিয়ে দিতে পারে এবং ঘুমের সময়ের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এ কারণে ঘুমানোর আগে নীল আলো কমানোর কিছুটা যৌক্তিকতা রয়েছে বলে চিকিৎসক ফিরদৌস কৌসার উল্লেখ করেছেন।
তবে এর প্রভাব সীমিত। স্ক্রিনের আলো কমিয়ে দেওয়া কিংবা ঘুমানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগে মুঠোফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার বন্ধ করলেও একই উদ্দেশ্যে কাজ হতে পারে।
ব্লু-লাইটের চশমা ঘুমের মান উন্নত করে কি না, তা নিয়েও গবেষণার ফল একরকম নয়। একটি বড় পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় এ বিষয়ে পাওয়া ফলকে অনিশ্চিত ও পরস্পরভিন্ন বলা হয়েছে।
চোখের ক্লান্তি কমাতে কী করবেন?
স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে দিনের বেলায় চোখের ক্লান্তি কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকাতে হবে।
এ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ করে নিয়মিত পলক ফেলা, পর্দার উচ্চতা ও চোখ থেকে দূরত্ব ঠিক রাখা এবং পুরোনো চশমার নম্বর প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ব্লু-লাইটের চশমা ক্ষতিকর না হলেও, স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে চোখের ক্লান্তির মূল কারণ সমাধানে এর বিশেষ কার্যকারিতার শক্ত প্রমাণ নেই। বরং চোখের ক্লান্তির প্রকৃত কারণগুলো ঠিক করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
/অ