দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভাইয়ের সম্পত্তি বিধবার হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কেবল পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারীর রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।
‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য’ মামলায় গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি জমি-সংক্রান্ত দেওয়ানি রিভিশন মামলার শুনানি শেষে আদালত ২০০৮ সালে জারি করা রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পটিয়ার বাসিন্দা রামকান্ত বিশ্বাসের এক ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি নিজের অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে পটিয়া উপজেলার ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। রামকান্ত বিশ্বাসের জীবদ্দশাতেই সতীশ চন্দ্র মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাসও মারা যান।
এরপর রামকান্ত বিশ্বাসের মেয়ে শৌল বালা দাস ওই জমিতে উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা দাবি করেন। অন্যদিকে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী সাবিত্রী বালা জীবিত থাকাকালে ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন।
১৯৯৮ সালে শৌল বালা দাস পটিয়ার আদালতে জমিটির উত্তরাধিকার দাবি করে দেওয়ানি মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, জমি বিক্রির দলিলটি জাল ও প্রতারণামূলক এবং কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তা সম্পাদন করা হয়েছে।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত ২০০০ সালের ২২ জুন মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে বাদী চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিলটি খারিজ করে দেন।
এরপর ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছর আদালত রুল জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই রুলটি খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
রায়ে দায়ভাগা স্কুল অব হিন্দু আইনের অধীনে বিধবার অধিকার ও উত্তরাধিকারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে হাইকোর্ট বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তিতে স্বত্ব বা অধিকার লাভ করেন। তবে ওই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত।
আদালত বলেন, বিধবা স্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সবার নেই। বিধবার মৃত্যুর পর যিনি ওই সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার অধিকারী, কেবল তিনিই হস্তান্তরের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
যে ব্যক্তি বর্তমানে বা ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো আইনগত স্বার্থ বা অধিকার রাখেন না, তিনি সম্পত্তি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।
আদালত আরও বলেন, কোনো সম্পত্তি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ হস্তান্তর করা হয়নি—শুধু এই যুক্তিতে সম্পত্তিতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি আদালতে মামলা করে ওই হস্তান্তর চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না।
এমএম/