দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময়কার বিধিমালা উপেক্ষা করে পরবর্তী সময়ে তৈরি কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে কার্যকর দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় এমপিও-সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মী রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক পদে মো. আবু হানিফসহ চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পেয়ে পরদিন চাকরিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এনটিআরসিএ পরিপত্রের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় এই চার শিক্ষকের নামও ছিল।
তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন ‘এনটিআরসিএ সনদ নেই’—এই কারণ দেখিয়ে নামঞ্জুর করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চার শিক্ষক।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে করা কোনো পরিবর্তন বা নতুন শর্ত আগে থেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীর অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
আদালত বলেন, ২০১৫ সালে ওই চার শিক্ষককে নিয়োগের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এ সনদের বাধ্যবাধকতা প্রথম করা হয় ২০১৯ সালের প্রবিধানে। ফলে পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া এ শর্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না।
তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোয় নেই—রাষ্ট্রপক্ষের এমন দাবিরও আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন আদালত। কারণ সরকার পরবর্তী সময়ে একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও তা যুক্তিসংগত আইনগত ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারীভাবে করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে তা বিচারিক পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে।
চূড়ান্ত রায়ে এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে রিটকারী চার শিক্ষকের নাম মাসিক পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধা চার রিটকারীকে পরিশোধের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এমএম/