দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের পাতারটেকে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে পরিচালিত অভিযানে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান।
শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও ইসলামী মতাদর্শের মানুষকে দমন করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই সময় কাউকে গোপনে আটক রেখে পরে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়মিত ঘটত এবং এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে নেওয়া সাতজনকে বগুড়ায় একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার পর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নেতৃত্বে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মরদেহ নিতে আসা পরিবারের সদস্যদেরও তদন্তের ভয় দেখানো হয়। ফলে কেউ লাশ গ্রহণে এগিয়ে আসেননি। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন নিহত ইবরাহীমের বাবা। পরে তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানির জন্য সময় আবেদন করেন। তারা জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেরিতে পাওয়ায় প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন। প্রসিকিউশন এতে আপত্তি না জানালে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট আসামিপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন আইজিপি একেএম শহীদুল হক, তৎকালীন এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং তৎকালীন সোয়াট টিম লিডার এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।
বর্তমানে এ মামলায় একেএম শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এমএস/