দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টে দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড কেবল উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত।
বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় এ পর্যবেক্ষণ দেন। গত ২২ জুলাই রায় ঘোষণা করা হলেও এর লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে।
রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণদাতার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন ও কে এম সাইফুল ইসলাম।
রায়ে হাইকোর্ট ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড একটি কঠোর শাস্তি, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। এ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আদালত একমত পোষণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন বাদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন এবং তা পরিশোধের জন্য রূপালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। আইনি নোটিশের পরও টাকা পরিশোধ না করায় একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনআই অ্যাক্টে মামলা করা হয়।
পরে মামলাটি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।
হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত ও অর্থদণ্ড বহাল রাখলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কারাদণ্ডের অংশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধের দায় থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী বকেয়া অর্থ আদায় করা হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএম/