দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি মঙ্গলবার (৯ জুন) হাইকোর্টে পাঠানো হবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারকের স্বাক্ষর শেষে নথি পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর সোমবার তাদের কনডেম সেলে নেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। অপরদিকে স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন স্বপ্না আক্তার।
গত ১ জুন মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলার বিচারকাজ শেষ হয়।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রোববার আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা সোহেল রানার বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা।
এমএস/