দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
আদালতে হাজতে থাকা ২৩ জন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। পলাতক থাকা বাকি ১৬ জনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। একই সঙ্গে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেন।
শুনানিকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। হাজতি আসামিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি নিজেদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নিজেই প্রায় ২৫ মিনিট ধরে আদালতে তার অবস্থান তুলে ধরেন। অন্য দুই হাজতি আসামিও পৃথকভাবে বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এই মামলা দেশের জনগণ, আইনজীবী সমাজ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সকালের হাজতির সময় আদালত প্রাঙ্গণে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির শতাধিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এই আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের অনুসারীদের বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যা পরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম না থাকলেও তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ মে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুনানিকালে আদালত একজন আসামির অব্যাহতির সুপারিশ নাকচ করেন। ফলে মামলায় বর্তমানে মোট ৩৯ জন আসামি রয়েছে।
এদের মধ্যে ২৩ জন কারাগারে থাকলেও ১৬ জন এখনও পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
জে আই