দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদ্বেষমূলক এবং বেআইনিভাবে রায় দেয়াসহ অসত্য ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রায় সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে এ তথ্য জানা গেছে।
বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৯ ও ৪৬৬ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থাকায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এ অভিযোগ দায়ের করেন।
২৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সদ্য পদত্যাগ করা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ঢাকার শাহবাগ থানায় করা মামলার আবেদনে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সাবেক বিচারপতি খায়রুল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় প্রভাবিত হয়। তার নিজের অবসর পরবর্তী ভালো পদায়নের জন্য লোভের বশবর্তী হয়ে, দুর্নীতিমূলকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করার অভিপ্রায়ে, ২০১১ সালের ১০ মে সংক্ষিপ্ত আদেশটি পরিবর্তন করে, বেআইনিভাবে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর উক্ত আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।
আরও জানা যায়, ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। তবে ১০ম এবং ১১ তম সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে সংক্ষিপ্ত রায়ে মত দেয়া হয়।
মামলার বাদির আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দুই মেয়াদে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বিষয়ে দেয়া রায় পাল্টে দেন খায়রুল হক। আর তখন থেকে দেশে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়।
এর আগে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগে সদ্য আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালতে ইমরুল হাসান নামে এক আইনজীবী এ আবেদন করেন।
আবেদনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে মামলা গ্রহণের মতো উপাদান না থাকায় তা খারিজ করে দেন আদালত।
এদিকে এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও আইনসচিবের কাছে নোটিশটি দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) চেয়ারপারসন ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।
নোটিশে বলা হয়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি বিচার বিভাগের সামনে আনা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বলে রায় দেন। তার অবসরের ১৬ মাস পর রায় প্রকাশ হয়। এই রায় বাংলাদেশে কুৎসিত সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
খায়রুল হক দেশের সব অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার স্থপতি দাবি করে নোটিশে আরও বলা হয়, তিনি শুধু সংবিধানের বিধানই লঙ্ঘন করেননি, বরং সব ঘৃণার বিষবৃক্ষ, দুর্নীতি ও বর্বরতা রোপণ করেন। সব প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের মনোবল হ্রাস, বিচার বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পক্ষপাতদুষ্টে পরিণত করেন। এসব অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়।
কে