দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ১১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আজও নিশ্চিত হয়নি দোষীদের শাস্তি।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনের আটতলা ভবনে আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় আগুন লাগে। ভয়াবহ আগুনের কথা এখনও মনে পড়ে আঁতকে ওঠেন ভুক্তভোগীরা।
সে রাতের কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন আহতরা। ১১ বছর পর নিশ্চিন্তপুরের ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলেও একসময়ের কর্মঠ শ্রমিকরা এখন আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না। শারীরিক যন্ত্রণা, সংসারের অনটনের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি না পাওয়ার আক্ষেপে দিন কাটছে তাদের।
শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, ১০ বছরেও হতাহত শ্রমিকরা পায়নি পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা। এ ছাড়া সরকার ও বিজিএমইএর কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী মেলেনি প্রাপ্তি।
তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১২ জন শ্রমিক মারা যান। আর আহত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কারখানাটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন, দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, ১০ বছরেও হতাহত শ্রমিকরা পায়নি পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা। এ ছাড়া সরকার ও বিজিএমইএর কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী মেলেনি প্রাপ্তি।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তাজরীন ট্রাজেডির আজ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাজরীনের ভবন দানবের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে যেসব শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছিল সেসব শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে এই ভবনে নতুন কোনো কারখানা অথবা হাসপাতাল বানিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি তুহিন চৌধুরী বলেন, অতিবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানাই। তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে ওই কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন সুপরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ১১২ জন শ্রমিককে হত্যা করেছে এবং আহত হয়েছে শতশত শ্রমিক। এ ঘটনার ১১ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
কেএইচ