দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলা করার আগ্রহ নেই। পুলিশের একাধিকবার অনুরোধের পরও সাড়া মেলেনি স্বজনদের। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার মামলা না করলে কোন ইউনিট কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজতে থাকা তাহসিফের বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে নিজের অবস্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও পরে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন তথ্য দেন তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দ্বীপের বক্তব্যে ঘটনার কিছু তথ্য আড়াল করার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে মামলা না হওয়ায় তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, আপাতত মামলা করতে চান না তিনি। তবে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা তাঁর। তিনি বলেন, ‘মামলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব। মামলার কেন প্রয়োজন হবে? সরকার নিশ্চয়ই এ বিষয়ে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে এবং অত্যন্ত আন্তরিক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মামলা মানেই আমাদের দেশে একটা ঝামেলা, কোর্টে দৌড়াদৌড়ি। কে চায় এরকম ঝামেলার মধ্যে পড়তে?’
পরিবার মামলা না করলে পুলিশের করণীয় সম্পর্কে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরিবার একান্তই এগিয়ে না এলে নৌ পুলিশই হয়তো অপমৃত্যুর মামলা করবে।
তবে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থল উত্তরখান থানা এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি দেখবে ওই থানা। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরখান থানা জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার মামলা করতে বলা হলেও তারা সাড়া দেননি।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এখনো কোনো মামলা হয়নি। মামলার বিষয়ে পরিবারের কেউ আমাদের কাছে আসেননি।’ পরিবার মামলা না করলে পুলিশ কী করবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
সাধারণত নিহত ব্যক্তির বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় থানায় মামলা করেন। তবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের বিষয়ে পরিবারের সদস্য ছাড়াও তৃতীয় ব্যক্তি, প্রতিবেশী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী থানায় অভিযোগ করতে পারেন। এমনকি পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করতে পারে।
এ বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেলে সাধারণত পরিবারের পক্ষ থেকেই মামলা করতে বলা হয়। পরিবারকে মামলার বাদী করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, স্বজনেরা ঘটনার বিবরণ, সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন। আদালতে ন্যায়বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দ্বীপ জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তবে ওই রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই।
দ্বীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানান, মধ্যরাতে তিনি তাহসিফের সঙ্গে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এলাকাটি মাদকসেবীদের আনাগোনার স্থান হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
দ্বীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে অবস্থানের সময় পুলিশের একটি দল তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় দ্বীপ তুরাগ তীরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে লুকান। আর তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। পরে সুযোগ বুঝে দ্বীপ সেখান থেকে সরে যান এবং রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাসায় ফেরেন।
এমএম/