দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বরাতে এ তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের অগ্রগতি না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়। ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর ও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালত প্রতিবার আরও ছয় মাস করে সময় দেন। এর ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পরিদর্শক মো. রবিউল আলম। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সংস্থাটি।
এদিকে, মামলার তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তাঁদের করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। পরে পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলায় বাদীপক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এমএম/