দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, অভিযোগপত্রে দুই কিশোরসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাদের অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।
এর আগে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তিনি দ্রুত মামলার রায় ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান অপ্রতিমের বাবা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্তারিত জানতে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশ।
এমএম/