দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে যথাযথ রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার রোধে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যথাযথ রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অর্থনীতিতে অতিরিক্ত কাগুজে মুদ্রা সরবরাহ করা হলে এর ফলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
নোটিশদাতার দাবি, বাংলাদেশে নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে সোনা, রুপা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যথাযথ ভিত্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
এতে আরও বলা হয়, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থের সরবরাহের ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির কারণে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নোটিশদাতার মতে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে এমন কোনো পদক্ষেপ থাকা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
অন্যদিকে, ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের উচ্চমূল্যের নোটের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম। নোটিশদাতার অভিযোগ, উচ্চমূল্যের নোটটি অবৈধ অর্থ, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অর্থ নগদে সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এর ফলে অর্থনীতির একটি অংশ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যেতে পারে।
নোটিশে ভারতের ২ হাজার টাকার নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশেও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার ভাষ্য, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে নগদভিত্তিক অবৈধ অর্থের মজুত শনাক্ত করা এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ রিজার্ভের ভিত্তি ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার মজুত নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কে