দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সন্তান নিখোঁজ হয়েছে বোঝার পর সবচেয়ে জরুরি হলো ওই চরম সংকটময় সময়েও যথাসম্ভব শান্ত থাকা। কেননা, শিশু নিখোঁজ হওয়ার প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’।
তাই প্রথম ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সেই সময়ের মধ্যে আপনার সন্তান ওই এলাকায় থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আতঙ্কিত হয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
১. দ্রুত আশপাশে খুঁজুন
শিশুকে সর্বশেষ কোথায়, কখন এবং কার সঙ্গে দেখা গেছে, তা নিশ্চিত করুন। বাড়ি, সিঁড়ি, ছাদ, গলি, দোকান, খেলার জায়গা, স্কুল, পার্ক, বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সম্ভাব্য স্থানগুলোয় দ্রুত খোঁজ করুন। একা না গিয়ে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের জায়গায় জায়গায় ভাগ করে দিন।
২. সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান
শিশু নিজে থেকেই ফিরে আসবে, এমন আশায় অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন। নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত পুলিশকে জানানো যায়, তত দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করার সুযোগ বাড়ে। আর সেই সঙ্গে বাড়ে সন্তানকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও। এ ক্ষেত্রে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হতে পারে সবচেয়ে সহায়ক।
৩. প্রয়োজনীয় সাধারণ তথ্য
শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, নাম, বয়স, উচ্চতা, গায়ের রং, পরনের পোশাক ও জুতার বিবরণ, কোনো বিশেষ শারীরিক চিহ্ন এবং সর্বশেষ কোথায় ও কখন দেখা গেছে—এসব তথ্য পুলিশকে দিন। নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ বা জিডিও করুন। শিশুর কাছে মুঠোফোন থাকলে ফোন করুন। ফোনের শেষ অবস্থান, কল, মেসেজ বা অন্য কোনো ডিজিটাল তথ্য থাকলে তা মুছে ফেলবেন না।
৪. ছবি প্রচার করুন, তবে সতর্কভাবে
সাম্প্রতিক পরিষ্কার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে শিশুর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে জন্মনিবন্ধন নম্বর, পূর্ণ ঠিকানার মতো অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। শিশুটি যে এলাকার ও শিশুকে সর্বশেষ যে এলাকায় দেখা গেছে, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বিষয়টি শেয়ার করুন।
৫. হাসপাতাল ও পরিবহনকেন্দ্রে খোঁজ নিন
রাস্তার মোড়, গলির মাথা মূল সড়কের যেখানে গিয়ে মিশেছে, নিকটবর্তী হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটেও খোঁজ করুন।
কেএম