দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তরুণদের জন্য গ্রামীণফোনের বিনামূল্যের অনলাইন শিক্ষামঞ্চ ‘গ্রামীণফোন একাডেমি’ ৪ লাখ নিবন্ধনের মাইলফলক অর্জন করেছে। গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজার তরুণ প্ল্যাটফর্মটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিয়েছেন। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে ডিজিটাল ও এআই দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদারই প্রতিফলন হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
এআই ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের শেখা, কাজের ধরন ও ক্যারিয়ার গঠনের পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। এ বাস্তবতায় তরুণদের ভবিষ্যতের এআইনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আরও বিস্তৃত করছে গ্রামীণফোন একাডেমি।
গ্রামীণফোন একাডেমির এআই কর্মসূচিতে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই এজেন্ট, সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা, কর্মপ্রবাহ স্বয়ংক্রিয়করণ, এআইয়ের সহায়তায় পোর্টফোলিও তৈরি, কোডিং ছাড়াই অ্যাপ নির্মাণ, এআইনির্ভর ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা (ইউএক্স) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন একাডেমির বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করেছেন ৫০ হাজার শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নতুন দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে প্ল্যাটফর্মটি।
পটিয়া থেকে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ আমান জানান, গ্রামীণফোন একাডেমির অভিজ্ঞতা তাঁর যোগাযোগ দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ উন্নত করার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি যে এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠব। গ্রামীণফোন একাডেমি আমাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে। এখন আমি ডেলয়েট বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পড়ার পাশাপাশি আমার পরিমণ্ডলের তিন শতাধিক তরুণের মাঝে অর্জিত এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছি।’
গ্রামীণফোনের পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনবিষয়ক (ইএসজি) প্রধান ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাজারে প্রবেশ করছেন, যেখানে দেশের মোট বেকার জনসংখ্যার ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশই তরুণ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের জন্য সময়োপযোগী ও সহজলভ্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধনের এই মাইলফলক এবং আমাদের এআই কোর্সগুলোতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এই পরিবর্তনের যুগে শেখার ও নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তরুণরা কতটা আগ্রহী। গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে আমরা শেখার এই আগ্রহকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করতে চাই, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য নতুন ও অর্থবহ সুযোগ তৈরি করবে।’
গ্রামীণফোন একাডেমি তরুণদের ডিজিটাল, পেশাগত ও উদীয়মান প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলা, নতুন আয়ের পথ তৈরি করা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের আরও কার্যকর ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গ্রামীণফোনের লক্ষ্য।
এমএম/