দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিজ্জা বানানোর কাজেও ঢুকে পড়েছে রোবট। ময়দা ঢোকানো থেকে শুরু করে সস, চিজ ও পেপারোনি ছড়ানো—সবই করার কথা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের। কিন্তু বাস্তবে এই প্রযুক্তি এখনো বড় সাফল্য পায়নি। বরং একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পিজ্জা তৈরির রোবট কি সত্যিই সফল হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের মোতো পিৎজা রেস্তোরাঁয় এমন দুটি রোবট ব্যবহার করা হতো। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে রোবট দুটির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিকনিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় কারিগরি সহায়তাও। ফলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের রোবট দুটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে।
মোতো পিৎজার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লি কিনডেল বলেন, এত ব্যর্থতার পর আবার কোনো রোবট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করবেন কি না, তা নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন।
পিজ্জা তৈরির রোবট নিয়ে এমন ব্যর্থতার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। পিকনিকের পাশাপাশি জুমে ও পাজ্জির মতো প্রতিষ্ঠান রোবটিক বাহু দিয়ে পিজ্জা তৈরির চেষ্টা করেছিল। বাসিল স্ট্রিট তৈরি করেছিল স্বয়ংক্রিয় পিজ্জা বিক্রির যন্ত্র। কিন্তু এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
ফাস্টফুড খাতকে স্বয়ংক্রিয় করার জন্য সহজ মনে হলেও বাস্তবে কাজটি প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। ব্যাংক অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ রেস্তোরাঁ বিশ্লেষক সারা সেনেটর বলেন, পিজ্জা তৈরিতে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো প্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প দেখা যায়নি। তার মতে, খাবার তৈরির রোবট কখনো কখনো উপকরণ ভুল জায়গায় ফেলে দেয়। বিপরীতে মানুষ খুব দক্ষতার সঙ্গে পিজ্জা তৈরি করতে পারে।
তবে লি কিনডেল রোবটের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিজ্জা তৈরির ধারণার পক্ষে। একসময় নিজেই ময়দা তৈরি করতেন কিনডেল। কনুইয়ের টেনডনে চোট পাওয়ার পর যন্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছিলেন। এখন নিজেই একটি পিজ্জা তৈরির রোবট তৈরি করছেন।
নিজের তৈরি যন্ত্রটির বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও কিনডেল জানিয়েছেন, এটি বর্গাকার প্যান-ধাঁচের পিজ্জা তৈরি করবে। যন্ত্রটির নকশায় ত্রিমাত্রিক মুদ্রণযন্ত্রের ধারণা কাজে লাগানো হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর সংস্করণ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। যদিও রোবট তৈরিতে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
কিনডেলের মতে, ব্যর্থ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পাওয়া গেছে। তার বিশ্বাস, পুরোপুরি কার্যকর পিজ্জা তৈরির রোবট তৈরি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।
রোবট মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে কি না, সে বিষয়েও কিনডেলের ভিন্ন মত রয়েছে। সিয়াটল মেরিনার্সের মাঠ টি-মোবাইল পার্কে পিকনিকের রোবট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, আগে যেখানে পিজ্জা তৈরিতে প্রায় ১০ জন কর্মী প্রয়োজন হতো, রোবট ব্যবহারের পর সরাসরি তৈরির কাজে দুজনই যথেষ্ট ছিল। তবে বাকি আটজন চাকরি হারাননি। তারা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও স্টেডিয়ামজুড়ে পিজ্জার প্রচারের মতো কাজে যুক্ত ছিলেন। এতে দ্রুত পিজ্জা সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি তার।
গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে কানাডার প্রতিষ্ঠান অ্যাপেট্রনিক্স। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোনাটস পিজ্জা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার একটি স্বয়ংক্রিয় পিজ্জা ইউনিট বসায় তারা।
অ্যাপেট্রনিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নিপুন শর্মা জানান, নতুন সংস্করণের যন্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে শেষ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে একটি করে পিজ্জা তৈরি করা যায়। বর্তমানে পিজ্জার ওপর সস ছড়াতে প্রায় ৯ দশমিক ৫ সেকেন্ড সময় লাগে। এই সময় কমিয়ে প্রায় দেড় সেকেন্ডে আনার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া পিজ্জা কাটতে প্রচলিত ছুরির চেয়ে দ্রুত পদ্ধতি হিসেবে লেজার ও অতিস্বনক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তির গতি ও একই মান ধরে রাখার সুবিধার বিপরীতে রয়েছে মানুষের তৈরি খাবারের আলাদা আবেদন। পিজ্জা রেস্তোরাঁর মালিক পল জিয়ানোনে পাঁচ বছর আগে বলেছিলেন, তিনি কখনো রোবট ব্যবহার করবেন না। এখনো তার অবস্থান বদলায়নি। তার রেস্তোরাঁয় ব্যক্তিগত সেবা ও ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সারা সেনেটরের মতে, রেস্তোরাঁয় মানুষের উপস্থিতি এখন আগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রোবট চালু করে সেখানে কোনো কর্মী না থাকলে যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে ক্রেতারা বিরক্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁর মানবিক পরিবেশও হারিয়ে যেতে পারে।
তারপরও পিজ্জা তৈরির প্রযুক্তির বিকাশ থেমে নেই। একসময় রোবটিক পিজ্জা তৈরির চেষ্টা করা জুমের মালিকানাধীন ৩০০টির বেশি পেটেন্ট কিনে নিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার মিসো রোবটিকস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিচ হলের মতে, জুমের রোবট দিয়ে পিজ্জা তৈরির ধারণাটি ছিল খুবই ভালো, তবে তারা বাজারের সময়ের তুলনায় কিছুটা আগেই এগিয়ে গিয়েছিল।
মিসো রোবটিকস ইতোমধ্যে ‘ফ্লিপি’ নামে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির একটি রোবট তৈরি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত হচ্ছে। জুমের পেটেন্ট ভবিষ্যতে ফ্লিপির সক্ষমতা বাড়াতেও কাজে লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন হল।
/অ