দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশে মানুষের দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনে ভিডিও কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা বা ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার মিনিট ভিডিও কনটেন্ট দেখা হয়। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ ভিডিও দেখা হয়, তা একটানা দেখতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ বছর।
গ্রামীণফোনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন তাদের নেটওয়ার্কে যে পরিমাণ ভিডিও ডেটা ব্যবহার হয়, তা দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সম্প্রচার করা সম্ভব। এই বিপুল ভিডিও ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে রিলস, বারবার শোনা সংগীতের ভিডিও, অনলাইন ক্লাস, সরাসরি খেলা দেখা কিংবা বাড়ি ফেরার পথে প্রিয় সিরিজের পর্ব দেখা।
ফলে ভিডিও এখন বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনন্দিন ডিজিটাল অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস যত বাড়ছে, ততই দ্রুত ও নির্বিঘ্ন ভিডিও দেখার প্রত্যাশাও বাড়ছে। ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা হলো, চালু করার বোতামে চাপ দিলেই ভিডিও যেন সঙ্গে সঙ্গে চলতে শুরু করে।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক সক্ষমতা।
গ্রামীণফোনের ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গকে ৬০ লেনের একটি ডিজিটাল মহাসড়কের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ব্যস্ত সময়ে প্রশস্ত সড়ক যেমন একসঙ্গে বেশি যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেয়, তেমনি বেশি তরঙ্গ সক্ষমতা একই সময়ে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে।
এর সঙ্গে রয়েছে সর্বোচ্চ ২০০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কের গতি, যা মানুষের ক্রমবর্ধমান ভিডিওনির্ভর ডিজিটাল জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সক্ষমতা নিশ্চিত করে।
এরপর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কনটেন্টের কাছাকাছি থাকা। গ্রামীণফোনের বিস্তৃত স্থানীয় ক্যাশ ব্যবস্থা বা সংরক্ষণ অবকাঠামোর মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত কনটেন্ট গ্রাহকের আরও কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে প্রতিবার কনটেন্টকে বিশ্বের দূরবর্তী কোনো সার্ভার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় না।
কনটেন্টের যাত্রাপথ যত ছোট হয়, ভিডিও শুরু হওয়ার সময়ও তত কমে। এমনকি প্রতিটি মিলিসেকেন্ড যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখন একটি ভিডিওর প্রথম তথ্য মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেও লোড হওয়া সম্ভব, যা চোখের পলক ফেলার সময়ের চেয়েও কম।
সরাসরি সম্প্রচার শুরু করা, ভিডিওতে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিংবা পরবর্তী পর্ব চালু করা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেটওয়ার্ক দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দেশব্যাপী চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। গ্রামীণফোনের রয়েছে ২৪ হাজারের বেশি নেটওয়ার্ক সাইট এবং দেশের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি জনসংখ্যার কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা।
শহরের ব্যস্ততম এলাকা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সব জায়গায় নির্ভরযোগ্য ভিডিও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার পেছনে কাজ করছে এই বিশাল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো।
ব্যবহারকারীরা যখন কোনো ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে চালু হতে দেখেন, সরাসরি সম্প্রচারিত খেলা কোনো বাধা ছাড়াই উপভোগ করেন কিংবা কোনো সিরিজের পর্ব আটকে যাওয়া ছাড়াই দেখেন, তখন এর পেছনে থাকা প্রযুক্তিগত জটিলতা সাধারণত তাদের চোখে পড়ে না।
তারা শুধু প্লে করার বোতামে চাপ দেন। আর ভিডিও চলে।
যে আই