দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাড়ি বা ট্রেনে চলার সময় অনেকেরই মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা অস্বস্তির সমস্যা হয়। এবার সেই সমস্যার সমাধানে আইফোনের একটি লুকানো সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ভেহিকল মোশন কিউস’ নামের এই সুবিধায় পর্দায় নড়তে থাকা ছোট ছোট বিন্দু দেখা যায়, যা অনেক ব্যবহারকারীর মতে ভ্রমণজনিত অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করছে।
নিউইয়র্কের পাতাল রেলে যাত্রীদের ফোনের পর্দায় নাচতে থাকা বিন্দু দেখে বিষয়টি নজরে আসে অনেকের। পরে জানা যায়, এসব ব্যবহারকারী একই ধরনের সমস্যার সমাধান খুঁজতে আইফোনের এই বিশেষ সুবিধা চালু করেছেন।
আইফোনের এই সেটিংস চালু করলে পর্দার চারপাশে কিছু অ্যানিমেটেড বিন্দু দেখা যায়। ফোনের ভেতরের গতি মাপার যন্ত্র বা অ্যাক্সিলেরোমিটারের মাধ্যমে গাড়ি বা ট্রেনের গতির সঙ্গে মিল রেখে বিন্দুগুলো নড়াচড়া করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নড়াচড়া চোখ ও শরীরের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক গাড়ির গতির সঙ্গে চোখে দেখা তথ্যের পার্থক্য কম অনুভব করে এবং বমিভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা কিছুটা কমে।
কেন হয় ভ্রমণজনিত অসুস্থতা?
চিকিৎসকদের মতে, গাড়িতে চলার সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে পাওয়া সংকেতের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে অনেকের অস্বস্তি হয়।
চোখ যদি মনে করে আপনি স্থির অবস্থায় আছেন, কিন্তু ভেতরের কান শরীরের নড়াচড়া বুঝতে পারে, তখন মস্তিষ্কে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর ফলেই মাথা ঘোরা, অস্বস্তি বা বমিভাব হতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টেন স্টিনারসনের মতে, শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হলে অনেকের বমি বমি ভাব হয়।
তার মতে, শরীর কীভাবে মহাকাশে নড়াচড়া করছে, সে বিষয়ে চোখকে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া গেলে এই সমস্যা কমতে পারে। আইফোনের নড়তে থাকা বিন্দুগুলো সেই কাজটিই করে।
কীভাবে চালু করবেন?
আইফোনে এই সুবিধা চালু করতে যেতে হবে—
সেটিংস → অ্যাক্সেসিবিলিটি → মোশন → ভেহিকল মোশন কিউস
ব্যবহারকারীরা চাইলে এটি সব সময় চালু রাখতে পারেন অথবা গাড়ি চলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন।
বিন্দুর আকার ও রঙ পরিবর্তনের সুবিধাও রয়েছে।
সবার জন্য কি কাজ করে?
সব ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এক নয়। কেউ কেউ জানিয়েছেন, এই সুবিধা তাদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আবার কেউ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পার্থক্য অনুভব করেননি।
নিউইয়র্কের কিউরেটর জান্ডি ব্রকেট বলেন, গাড়িতে অসুস্থতার সমস্যায় এই সুবিধা তার জন্য ‘খুব কার্যকর’ হয়েছে।
তবে এর একটি মজার দিকও রয়েছে—এই সুবিধা কাজ করে মূলত তখনই, যখন ব্যবহারকারী চলন্ত অবস্থায় ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের আরও বেশি জায়গা দখল করছে। এমনকি যেসব সময় মানুষ সাধারণত ফোন ব্যবহার করে না, সেসব সময়েও নতুন প্রযুক্তি ফোনকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আইফোনের এই সুবিধা ব্যবহার করে আরাম পাওয়া গেলেও কখনো কখনো সবচেয়ে সহজ সমাধান হতে পারে—ফোনটি কিছুক্ষণ পাশে রেখে যাত্রাপথ উপভোগ করা।
/অ