দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। মানুষ বেশি কাজ করলে ক্লান্ত হয়ে যায়, প্রয়োজন হয় বিরতির। কিন্তু এআই প্রযুক্তির বিরতির প্রয়োজন নেই। তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে যন্ত্র বা অ্যাপ্লিকেশনকে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির আদলে কাজের উপযোগী করে তোলে এআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সাধারণত অ্যালগরিদম ও মেশিন লার্নিং-সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশাল তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করে ফলাফল ও অনুমান জানিয়ে থাকে।
মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হলেও এই প্রযুক্তি নিয়ে ভয়ের কথা জানিয়ে আসছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মানুষের তৈরি এই প্রযুক্তি পৃথিবী নামক গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন তারা। সেসব বিশেষজ্ঞদের কথা এবার সত্যিই হচ্ছে। মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনি ভয়ঙ্কর তথ্য।
১০ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি-এমআইটির বিজ্ঞানীরা এআই সিস্টেমের একটি পরিসরের ডেটা পর্যালোচনা করেছেন। দেখেছেন সিস্টেমটি পোকার গেমসে মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে। অর্থাৎ, কম্পিউটারগুলোতে থাকা প্রোগামে না খেলে অন্যভাবে খেলা হচ্ছে। শীর্ষে থাকতে গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারদর্শী এআইয়ের সিস্টেম।
এমআইটির গবেষকরা বলছেন, সিস্টেমের অনিচ্ছাকৃত পরিণতি ছিল এটি। কিন্তু, এই দক্ষতা মানুষের জন্য হুমকি। এটি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। এআই নির্মাতারা যদি এই সমস্যার সমাধান না করেন তবে এটি বাড়তে থাকবে। নির্বাচন ও রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এমনকি, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোতে নিয়োগে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।
প্যাটার্নস জার্নাল প্রকাশিত গবেষণাপত্রের লেখক ড. পিটার এস পার্ক লেখেন, এআই সিস্টেম মানুষকে প্রতারিত করতে সক্ষম। প্রতারণা সিস্টেমটি প্ররোচণামূলক। প্রতারণা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। এতে আরও লেখা হয়, ভাষার বৃহৎ মডেল ও অন্যান্য এআই সিস্টেমগুলো প্রতারণার বিষয়টি আয়ত্ত্ব করে ফেলেছে। এমনটি তারা করেছে নিজেদের ট্রেনিংয়েই।
এআই সিস্টেম প্রতারণা করতে পারে গবেষণাপত্রে এমন উদাহরণ টেনে আনা হয়েছে। তারা দেখিয়েছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার সিসেরো সিস্টেমের কথা। ডিপ্লোম্যাসি গেমসের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানব খেলোয়াড়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে সিসেরো সিস্টেমটি। নতুন কৌশল স্থাপনে পারদর্শী ছিল মেটার এই এআই। ড. পিটার এস পার্ক মেটার এই সিস্টেমটিকে প্রতারণার মাস্টার বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ডিপ্লোম্যাসি গেমসে বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি ট্রেনিংয়ের সময় সিস্টেমটি আয়ত্ত্ব করে ফেলে। তবে, সৎ পন্থায় বিজয়ী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে মেটা।
এস