দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে ‘ডিপফেক প্রযুক্তি’র বিষয়টি। সম্প্রতি রাশমিকা মান্দানা আর ক্যাটরিনা কাইফের দুটি আপত্তির ভিডিও ও ছবি সামনে আসার পর থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৭ সালে প্রথম ডিপফেক টেকনোলজি প্রচারণা পায়। ডিপ শব্দটি এসেছে ‘ডিপ লার্নিং’ অর্থাৎ গভীরভাবে শিক্ষা নেওয়া এবং অন্যদিকে ‘ফেক’ অর্থাৎ নকল বা ভুয়া। এই দুই শব্দের সংমিশ্রণ থেকেই এসেছে ‘ডিপফেক’।
ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার অনেক বেশি সহায়কের ভূমিকা পালন করে বিনোদন জগতে। যেমন ডাবিংয়ের মান উন্নত করতে, মৃত অভিনেতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে কিংবা জাদুঘর বা গ্যালারিকে প্রাণবন্ত করতে এর জুড়ি মেলা ভার।
জানেন কি? ‘স্টার ওয়্যারস’ খ্যাত অভিনেত্রী ক্যারি ফিশার। ২০১৬ সালে এই চলচ্চিত্র সিরিজের একটি প্রিকুয়েল ‘রৌগ ওয়ান’ মুক্তি পায়। ওই সিনেমার এক দৃশ্যে সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র প্রিন্সেস লিয়ার যুবতী সময়ের কিছু দৃশ্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্যারি ফিশার তখন ষাট বছরে পা দিয়েছেন। ফলে তার কম বয়সী সংস্করণ তৈরি করতে ডিপফেক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়।
তবে বর্তমান সময়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই প্রযুক্তি সবার কাছে অভিশাপের নাম হয়ে উঠছে। ধরুন কেউ আপনার কাছের কোনো মানুষ আপনাকে একটি ভিডিও দিলো। ভিডিও চালু করে আপনি অবাক। অশ্লীল এক ভিডিওতে আপনাকে দেখা যাচ্ছে; চেহারা, ভয়েস, এক্সপ্রেশন অবিকল আপনার। আপনি জানেন ভিডিও’র ব্যক্তি আপনি নন। অথচ ভিডিওটি এতটাই বাস্তব যে আপনার নিজেরও বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে, ভিডিও’র ব্যক্তি আপনি নন। কিন্তু কী করে এটা সম্ভব? এটা সম্ভব ডিপফেক টেকনোলজি দিয়ে।
ডিপফেকের অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রী, ইনফ্লুয়েন্সার, মডেল, ক্রীড়াবিদসহ অনেকেই হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপফেক ভিডিও’র ৯৬ শতাংশ পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত। ডেইজি রিডলি, জেনিফার লরেন্স, এমা ওয়াটসন এবং গ্যাল গ্যাডট এর মতো বড় বড় তারকার ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।
এছাড়া ডিপফেক দ্বারা আক্রান্তদের পরবর্তী গ্রুপ হলেন বড় বড় রাজনীতিবিদরা। বেশ কয়েকবছর আগেই আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপমান করার ডিপফেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। অন্য একটি ডিপফেক ভিডিওতে রাজনীতিবিদ ন্যান্সি পেলোসির বক্তৃতা এমনভাবে ডিপফেক করা হয়েছিল যাতে দর্শকরা ভাবেন যে, তিনি মাতাল ছিলেন। আবার অন্য একটি ডিপফেক ভিডিওতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সদস্যপদ নিয়ে বেলজিয়ামকে উপহাস করতে দেখা যায়। আরেকটি ডিপফেক ভিডিওতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সেনাদের আত্মসমর্পণ করার কথা বলতে দেখা যায়।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডিপফেকের ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়েছে এবং সামনে আরও ভয়ঙ্কর হবে, বিশেষ করে গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সেলিব্রিটিদের জন্য এটি বিপর্যয়কর পরিণতি নিয়ে আসবে। ডিপফেকের প্রভাবে শুধু ক্যারিয়ার নয়, জীবন ও নষ্ট করা সম্ভব, কিছুক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েও যেতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক কোনো ডিপফেক ঘটনা যুদ্ধ শুরু করার জন্য বিশ্ব নেতাদের নকল ভিডিও ব্যবহার করতে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডিয়াম