দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ল আকর্ষণীয় কোনো বিজ্ঞাপন। কৌতূহলবশত ক্লিক করতেই খুলে গেল অন্য একটি ওয়েবসাইট। সেখানে বলা হলো, একটি অ্যাপ নামিয়ে নিলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা। কিন্তু সেই অ্যাপ নামানোর পরই শুরু হতে পারে বিপদ চুপিসারে ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি করছে সাইবার অপরাধীরা। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর ব্যবহারকারীদের গুগল প্লে স্টোরের বদলে সরাসরি ‘এপিকে’ ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে। সেই ফাইল ইনস্টল করার পর ক্ষতিকর অ্যাপ ফোনের বিভিন্ন সংবেদনশীল অনুমতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিভিন্ন অ্যাপের ছদ্মবেশেও এসব ক্ষতিকর অ্যাপ ছড়ানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে অপরিচিত ওয়েবসাইট চালু হয়। সেখানে অ্যাপ ডাউনলোডের প্রলোভন দেখানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ঠিকানায় ‘ডট লাইভ’ ডোমেইনও দেখা যাচ্ছে।
যেভাবে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়্যার-
কোন অনুমতিতে বেশি ঝুঁকি: ক্ষতিকর অ্যাপগুলো অ্যাকসেসিবিলিটি পারমিশনসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল অনুমতি চাইতে পারে। এসব অনুমতি অ্যাপটির স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রয়োজন এমনভাবে ব্যবহারকারীর সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
কিন্তু একবার অনুমতি পেয়ে গেলে অ্যাপটি ফোনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো অপরাধ করা সম্ভব হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অ্যাপ ফোনে ভিপিএন বা ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কও ইনস্টল করতে পারে। তখন ফোনের ইন্টারনেট-সংক্রান্ত তথ্য আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রিত সার্ভারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
শুধু তথ্য চুরি নয়, ফোনের নিয়ন্ত্রণও: ক্ষতিকর অ্যাপের ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো কোনো অ্যাপ ফোনের সেটিংস থেকে নিজেকে আনইনস্টল করার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী চাইলেও সহজে অ্যাপটি সরাতে নাও পারেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডিজিআর্মরএক্সের প্রতিষ্ঠাতা নিধি শ্রীবাস্তবের মতে, এ ধরনের প্রতারণায় সামাজিক প্রকৌশল কৌশল ও ফোনের বিভিন্ন অনুমতিকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন থেকে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করানো পর্যন্ত বিষয়টি সাধারণ প্রতারণার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু অ্যাপটি যখন অ্যাকসেসিবিলিটি, ভিপিএন বা অন্য অ্যাপ ইনস্টলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি চায়, তখনই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন: অপরিচিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে সরাসরি এপিকে ফাইল ডাউনলোড না করাই নিরাপদ। কোনো অ্যাপ প্রয়োজন হলে গুগল প্লে স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই ডাউনলোড করা উচিত।
এ ছাড়া কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যাকসেসিবিলিটি, ভিপিএন বা অন্য অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি চাইলে সতর্ক হতে হবে। সন্দেহজনক অ্যাপ ইতিমধ্যে ফোনে ইনস্টল হয়ে থাকলে দ্রুত সেটির অনুমতি বাতিল করে অ্যাপটি সরানোর চেষ্টা করা জরুরি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কে