দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসঙ্গে টিভি, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা স্মার্ট স্পিকার, বাড়ির প্রায় সব ডিভাইসের ভরসা এখন ওয়াই-ফাই। কিন্তু একই নেটওয়ার্কে ডিভাইসের সংখ্যা বাড়লেই অনেক সময় কমে যায় ইন্টারনেটের গতি। ফলে ভিডিও দেখা, অ্যাপ নামানো কিংবা ভিডিও কলে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। তবে ধীরগতির ওয়াই-ফাই ঠিক করতে সব সময় টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন হয় না। রাউটারের অবস্থান থেকে শুরু করে কয়েকটি সহজ পরিবর্তনেই অনেক ক্ষেত্রে মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত গতি।
রাউটারের অবস্থান ঠিক করুন
ওয়াই-ফাইয়ের গতি ও কভারেজের ক্ষেত্রে রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির তুলনামূলক মাঝের জায়গায় এবং খোলা স্থানে রাউটার রাখলে সিগন্যাল বিভিন্ন দিকে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে। দেয়াল, বড় আসবাব কিংবা অন্য কোনো বাধার আড়ালে রাউটার না রাখাই ভালো। পাশাপাশি মাইক্রোওয়েভের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির খুব কাছেও রাউটার রাখা উচিত নয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুততর ব্যান্ড ব্যবহার করুন
বর্তমানের অনেক রাউটারেই ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ, দুই ধরনের ব্যান্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকে। সাধারণভাবে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে বেশি গতি দিতে পারে। তাই ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং বা উচ্চগতির তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ গিগাহার্টজ কাজে লাগতে পারে।
অন্যদিকে, ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড তুলনামূলক বেশি দূরত্বে সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে এবং দেয়াল পেরোনোর ক্ষেত্রেও সুবিধা দিতে পারে। ফলে ডিভাইসের অবস্থান ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যান্ড বেছে নেওয়া ভালো।
রাউটার পুনরায় চালু করে দেখুন
ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো রাউটারেও কখনো কখনো সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাউটার বন্ধ করে কিছুক্ষণ পর আবার চালু করলে সংযোগের কিছু সমস্যা দূর হতে পারে। তবে নিয়ম করে কয়েক দিন পরপর রাউটার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে বা রাউটার ঠিকমতো কাজ না করলে পুনরায় চালু করে দেখা যেতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস সংযোগমুক্ত করুন
একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে কতগুলো ডিভাইস যুক্ত রয়েছে, তা অনেক সময় ব্যবহারকারীরা খেয়াল করেন না। পুরোনো ফোন, ট্যাব, স্মার্ট টিভি বা অন্যান্য ডিভাইস প্রয়োজন না থাকলেও নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারে।
রাউটারের অ্যাপ বা সেটিংস থেকে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা দেখে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে নেটওয়ার্কের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো সম্ভব।
প্রয়োজন হলে রাউটার উন্নত করুন
অনেক পুরোনো রাউটার নতুন প্রজন্মের ডিভাইস ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে তাল মেলাতে নাও পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর রাউটারের হার্ডওয়্যার বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
তাই অন্যান্য সমাধান চেষ্টা করার পরও যদি ওয়াই-ফাইয়ের গতি ও কভারেজে সমস্যা থেকে যায়, তাহলে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি সমর্থন করে এমন রাউটারে উন্নীত করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন, উপযুক্ত ব্যান্ড ব্যবহার, পুনরায় চালু করা এবং অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস সরানোর পরও যদি ইন্টারনেটের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি শুধু ওয়াই-ফাই রাউটারের কারণে নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগ, লাইনের সমস্যা কিংবা দুর্বল সিগন্যাল কভারেজের বিষয়টি পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
/অ