দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। এ লক্ষ্যে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই গড়ে তোলার কাজ করছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে মঙ্গলবার এ কথা বলেন রেহান আসাদ। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে প্যানেলে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।
আসাদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই।’ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআই কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং সীমান্তের বাইরেও এসব ব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআইনির্ভর সেবার ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান আসাদ। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে এস্তোনিয়ার এই মডেল নিয়ে কাজ করার বিষয়টি আগেও জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয়পত্রের ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় যাচাই এবং দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন।
আসাদের মতে, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। একই সঙ্গে আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে ডিপিআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার পাশাপাশি এসব অবকাঠামো ব্যবহারে এআই কীভাবে নিরাপদভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘের বৃহত্তর ডিপিআই সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর ভাষায়, ‘মূল বিষয় হলো, এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।’
বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এমএম/