দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালির নাম বদলানোর কথা ভাবছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টি আয়োজিত প্রথম সম্মেলনে তিনি এ ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এর আগে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে ইরানের অংশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রতিদিন প্রণালি দিয়ে অনেক তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি জ্বালানি তেলের দাম অনেক অনেক কমিয়ে আনছি।’
ট্রাম্প বলেন, খাদ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতলে তেলের দাম আরও কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যদিও বিশ্ববাজারে এ দাবির ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গতকাল বুধবার জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতিদের হামলার পর তেলের দামে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।
সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও রসিকতা করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো সংবাদমাধ্যমের একজন সাংবাদিক বাথরুমে গেলে তাঁর খালি চেয়ারটি ক্যামেরায় দেখানো হবে। এরপর বলা হবে, প্রেসিডেন্ট সম্মেলনকক্ষটি কানায় কানায় পূর্ণ করতে পারেননি। তাই দয়া করে, কেউ বাথরুমে যাবেন না।’
এ সময় নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে, সেগুলোর কথা তুলে ধরেন। এসব অঙ্গরাজ্যকে সাধারণত ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান রাজ্য বলা হয়।
ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেসের প্রতিনিধি ও সিনেটর প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালাতে তিনি প্রতিটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে যাবেন এবং সেখানে সমাবেশ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি আসনেই জিততে পারি। তবে আমি সব (দোদুল্যমান) অঙ্গরাজ্যে যাব।’
রিপাবলিকানরা নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে এর পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়বে। মার্কিন নাগরিকেরা কর কমানোর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন ও নিরাপত্তা হারাবেন। আপনাদের জীবন নরক হয়ে যাবে, ঠিক দুই বছর আগে যেমন হয়েছিল।’
এদিকে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটরা এ আয়োজনকে ‘জাঁকজমকপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের ভাষায়, এটি দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর একটি চেষ্টা।
কে