দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইয়েমেনের হুতিদের অব্যাহত হামলার মধ্যে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ের শেষের পর এই প্রথম এ পর্যায়ে উঠল তেলের দাম।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে তা কিছুটা কমে ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি জাহাজ এবং খার্গ দ্বীপের কাছে আরও একটি জাহাজ ছিল।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। একই সঙ্গে ইরান দুটি মার্কিন জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালিতে আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) পরে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এম/টি রিয়েস্কো নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। হামলার শিকার খার্গ দ্বীপে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে নিয়ে রপ্তানি করা হয়।
এদিকে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা মঙ্গলবার সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। সৌদি সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদেরও জুলাই থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর আগে সোমবার হুতিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব আল-হাজমে একটি কারাগারে বোমা হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুতিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সংঘাতের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। তবে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির খুচরা দামও দ্রুত বেড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘বেশ সরল’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাবে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন জব্দ করেছে। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, পানির নিচে ব্যবহৃত ওই মার্কিন চালকবিহীন যানটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল। আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, এটি পুরোনো মডেলের একটি যান ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা বা শ্রেণিবদ্ধ শব্দতরঙ্গ ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। তবে আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
/অ