দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বহু বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা পেতে সমস্যার মুখে পড়েছেন। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর ভর্তি এক শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শেষ দিকে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। নতুন ‘জনকল্যাণ ব্যয়ের বোঝা’ সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিরতি কবে শেষ হবে বা কবে থেকে আবার ভিসা সাক্ষাৎকার শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
এমনিতেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। নতুন করে সাক্ষাৎকার বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে ভারত ও চীনের শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় বেশি পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুর উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিনীতা পারেখ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, ২০২৬ সালের মে মাস থেকে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার চেষ্টা করেও অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাননি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বড় ধরনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ চাকরি ছেড়েছেন, কেউ শিক্ষাঋণের ব্যবস্থা করেছেন, আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রস্তুতিও শেষ করেছেন।
কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ শুরুর নির্ধারিত সময়ের সাত থেকে ১২ দিন পরও আসার সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই সময়ের মধ্যেও যারা ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন না, তাদের ভর্তি পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পিছিয়ে দিতে হতে পারে।
এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্যান্য দেশে পড়াশোনার সুযোগ বিবেচনা করছেন। যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের বিকল্প গন্তব্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিনীতা পারেখ বলেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন আর স্বাভাবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে ধরে নিচ্ছেন না। তারা অন্যান্য দেশের সুযোগও খতিয়ে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার গোয়ার পরিচালক পুষ্কর বলেন, কর্মসংস্থান, তুলনামূলক বেশি বেতন এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগের কারণে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য ছিল।
তবে এখন সেই পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার্থীরা এখন অন্য বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট।
তবে শিক্ষা-পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রধান রিচার্ড কাওয়ার্ড মনে করেন, শক্তিশালী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবেই থাকবে।
তার মতে, শিক্ষার্থীরা কোন দেশে পড়তে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সুযোগ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে চীনা শিক্ষার্থীদের ওপরও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা জটিলতার কারণে কিছু চীনা শিক্ষার্থীকে আগামী বছর পর্যন্ত ভর্তি পিছিয়ে দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
তবে চীনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এখন নিজের দেশের কাছাকাছি গন্তব্যে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজছেন। বিশেষ করে জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ চীনা শিক্ষার্থীদের কাছে আগের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
সুত্র-দ্য ইকোনমিক টাইমস
এমএম/