দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবারের এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের সরকারি স্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানীতে টানা দশম দিনের মতো রুশ বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
হামলার পর কিয়েভের ঐতিহাসিক নগরকেন্দ্র থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেশটির সরকারি ভবনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খুব কমই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে শুক্রবারের হামলায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তর সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ড্রোনটি ভবনটির নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, রুশ হামলার উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্ভব হলে হামলার ধরন অনুসরণ করেই জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান জেলেনস্কি।
নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদ রুশ হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা জবাবের ভৌগোলিক পরিসর নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে দেশটির যুদ্ধযন্ত্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতে সংস্থাটি বড় ধরনের দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতুতে বোমা হামলা এবং ২০২৫ সালে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে একটি ড্রোন অভিযান উল্লেখযোগ্য। ওই অভিযানে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই কিয়েভে এই হামলা হলো। আগামী দুই দিনের মধ্যে মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের কথা রয়েছে। কয়েক মাস ধরে শান্তি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে আছে। এদিকে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সম্মুখসীমায় লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত রুশ হামলা চলছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দুই প্রতিনিধি রোববার কিয়েভ সফর করবেন। তাদের সফরের সময় ইউক্রেনে রুশ বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মস্কো সফরের জন্য রুশ আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তাও দিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে রুশ হামলা যুদ্ধের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা এবং এর জন্য দৃঢ় জবাব প্রয়োজন। তার ভাষ্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন প্রচেষ্টার সময় মস্কো এই হামলা চালিয়ে কূটনীতির প্রতি তাদের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
হামলার পর কিয়েভের ঐতিহাসিক অংশে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছাকাছি।
ইউরোপীয় নীতি ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ইরিনা বোরোভেটস জানান, তাদের কার্যালয় হামলাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে। বিস্ফোরণের সময় ভবনের দেয়াল কেঁপে ওঠে এবং বিস্ফোরণের ঢেউ তাদের কার্যালয়েও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া কমপ্লেক্সের একটি ভবনের জানালা ভেঙে গেছে। হামলার বিপরীত পাশে থাকা জনপ্রিয় বেকারি ‘জাভেরতাইলো’র ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরোর ছবি প্রকাশ করেছেন।
এদিকে টানা দশ দিন ধরে রুশ ড্রোন হামলার মধ্যে রয়েছে কিয়েভ। শহরের এক বাসিন্দা ওলেহ বলেন, মানুষ হয়তো এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। তবে তার আশঙ্কা, কিয়েভ ও মস্কো—দুই শহরেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
/অ