দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাগদাদের বারবার অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান। বিভিন্ন মাধ্যমে ইরাকের অনুরোধের পর এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, চলতি সপ্তাহে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ইরাক সফরের সময় ইরাকি ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ অনুমতি নেওয়া বাগদাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি শনিবার বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘ইরাকি তেল বহনকারী কিছু জাহাজের’ চলাচল সহজ করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা করেছে বাগদাদ।
বাগদাদ সংলাপবিষয়ক নীতিগত সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমিদি বলেন, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না তার সরকার। ইরাকের ভেতর থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হামলার ‘কোনো যৌক্তিকতা নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধে ইরাক যেন জড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সবাই আগ্রহী। এ যুদ্ধের প্রভাব তাদের দেশের ওপর ‘কঠোর’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আমিদি বলেন, এর প্রভাব শুধু ইরাকের ওপর নয়, পুরো বিশ্বের ওপর পড়ে। প্রণালির ‘জটিল সমস্যা’ নিয়ে ইরানের সঙ্গে বাগদাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তেহরান থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেন, প্রণালিকে ঘিরে এমন এক অচলাবস্থা চলছে, যা শুধু ইরাক নয়, সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমান আলোচনা চালালেও পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট। ইরান অগ্রগতির কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
আসাদি আরও বলেন, প্রণালি বন্ধ থাকার বড় প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। ইরান বলছে, নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ থাকবে।
তেহরানের ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে বলেন, ইরাক ‘সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে’ বলেই ইরান ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
তার মতে, যেসব উপসাগরীয় রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে বলে ইরানের অভিযোগ, তাদের শাস্তি দিতে চাইছে তেহরান। যদিও আঞ্চলিক দেশগুলো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, ইরাককে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান।
খোশচেশম বলেন, ইরান অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং ওই এলাকায় জাহাজগুলো হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তবে ইরাক এখন তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর কাজ করছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর ও জর্ডানের আকাবা বন্দর দিয়েও তেল রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এ তথ্য জানান।
/অ