দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে বিস্তারিত আলোচনা করার অভিযোগে গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক এক বিশ্লেষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে হওয়া তার কথোপকথনের তথ্য ওপেনএআই এফবিআইকে জানালে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।
গ্রেপ্তার হওয়া ড্যারেন ঝৌয়ের বয়স ২৫ বছর। তিনি ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। ম্যাসাচুসেটস লইয়ার্স উইকলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে চ্যাটজিপিটিতে পাঠানো ঝৌয়ের বার্তাগুলো কেবল আবেগ প্রকাশ বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। বরং সেখানে বারবার সহিংসতার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারের ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে বিষয়টি জানায়। তদন্তকারীদের কাছে ঝৌয়ের দুই মাসের কথোপকথনের ইতিহাসও দেওয়া হয়।
গত মার্চে ছয় মাসের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন ঝৌ। পুলিশকে তিনি জানান, ওই নারীর আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি ঈর্ষান্বিত ছিলেন। সম্ভাব্য কারণসংক্রান্ত হলফনামায় বলা হয়েছে, তাকে প্রত্যাখ্যান করলে সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার কথাও তিনি বলেছিলেন।
একপর্যায়ে ঝৌ চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল নিয়ে সাবেক প্রেমিকার ব্যায়ামাগারের গাড়ি রাখার স্থানে অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার অনুরোধ জানাবেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে হত্যা এবং পরে নিজেকেও গুলি করার পরিকল্পনার কথা তিনি বর্ণনা করেছিলেন।
পরে তার কথিত হুমকির ধরন আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তদন্তকারীদের দাবি, ঝৌ সাবেক প্রেমিকাকে জোর করে গাড়ি চালিয়ে দক্ষিণ পাম বিচে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা চ্যাটবটকে জানান। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন ও বন্দি করে রাখার কথাও বলা হয়। পুলিশ বাধা দিলে তাকে একাধিকবার গুলি করার এবং পরে নিজেকে হত্যার পরিকল্পনার কথাও তিনি আলোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, পরে ঝৌয়ের কথিত লক্ষ্যবস্তুতে সাবেক প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরাও যুক্ত হন।
শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ওই নারীর খোঁজ নিতে গেলে তিনি জানান, ঝৌয়ের অস্বাভাবিক, ঈর্ষাপরায়ণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণে তিনি সম্পর্কটি শেষ করেছিলেন। ঝৌ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন, সেই আশঙ্কায় তিনি সরাসরি দেখা না করে ফোনেই সম্পর্ক ভেঙে দেন।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও ঝৌ ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। ওই নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে মন্তব্য করা এক ব্যক্তিসহ অন্য পুরুষদের বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করতেন এবং খুব দ্রুত অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলতেন।
নারীটি ঝৌয়ের ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার পরও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি নম্বর ব্যবহার করে তিনি যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বার্তার কিছু হয়রানিমূলক, অপমানজনক, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও হুমকিসূচক ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ওই নারী তদন্তকারীদের কাছে কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেন।
ঝৌয়ের চ্যাটজিপিটিতে হওয়া কথোপকথন পর্যালোচনা করা এক শেরিফ কর্মকর্তা বলেন, এগুলো ক্ষোভ বা মানসিক অস্থিরতার অস্পষ্ট প্রকাশ ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, কথোপকথনগুলোতে ক্রমেই সুনির্দিষ্ট হয়ে ওঠা হুমকি ও পরিকল্পনার একটি ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
মে মাসে গ্রেপ্তারের পর ঝৌ পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন ছিলেন। পরে এক লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গুরুতরভাবে অনুসরণ করা, হত্যার লিখিত হুমকি দেওয়া এবং অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।
গত ১৩ আগস্ট প্রসিকিউটরদের সঙ্গে হওয়া এক সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনটি অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন ঝৌ। ওই সমঝোতার ফলে তিনি কারাদণ্ড ও গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি এড়ানোর সুযোগ পান।
সার্কিট বিচারক স্কট সাসকাওয়ার জানান, সাবেক প্রেমিকাও এই সমঝোতায় সম্মতি দেওয়ায় তিনি তা গ্রহণ করেছেন। ঝৌকে দোষী সাব্যস্ত করার পরিবর্তে আদালত রায় স্থগিত রেখে তাকে আট বছরের পর্যবেক্ষণে থাকার সাজা দিয়েছেন।