দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এ কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের সমালোচনা ঠেকাতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক থাকা ‘খারাপ বিষয় নয়, বরং ভালো বিষয়’।
ট্রাম্পের দেওয়া ৫৭ সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে সুনির্দিষ্ট। এর আগে কোনো মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রকাশ্য বিভিন্ন মূল্যায়নে সাধারণত উত্তর কোরিয়ার হাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে দেশটির গোপনীয় পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
ট্রাম্পের দেওয়া ৫৭টি অস্ত্রের হিসাব কোনো গোপন মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কিম জং উনকে ‘খুবই শক্তিশালী খেলোয়াড়’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আগের প্রশাসনগুলো উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারি—এটা ভালো বিষয়। আপনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারেন না। আর আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের যদি একজন বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট থাকে, তাহলে তিনি ঠিক থাকবেন।’
চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের তারিখ বা স্থান জানাননি তিনি। নভেম্বর মাসে এশিয়া সফরের সময় বৈঠকটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো শীর্ষ বৈঠক ঘোষণা করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত অত্যন্ত গোপনীয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত হিসাবেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ২০২৪ সালে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়া প্রায় ৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করে থাকতে পারে। দেশটির কাছে সর্বোচ্চ ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মতো বিভাজ্য পদার্থ থাকতে পারে বলেও ওই মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তার যুক্তি, এই মহড়া ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠায়। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মহড়ার সময় কমিয়ে শুক্রবার তা শেষ করা হবে।
কিমের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। তবে ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা ভেঙে যায়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের বিষয়ে কিমের বোন কিম ইয়ো জং অবশ্য বলেছেন, সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। ওয়াশিংটনের উত্তর কোরিয়া নীতি এখনো বৈরী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশ্বের দুই বৃহৎ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত অনেক কম। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক মজুতে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৭০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। চীনের রয়েছে ৬২০টি, ফ্রান্সের ২৯০টি, যুক্তরাজ্যের ২২৫টি, ভারতের ১৯০টি, পাকিস্তানের ১৭০টি এবং ইসরায়েলের ৯০টি।
একই সংস্থার হিসাবে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৬০টি প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির গোপনীয়তার কারণে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
/অ