দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাঝরাতে লাগা এ আগুনে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখ থেকে মা-বাবাকে নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন বাংলাদেশি ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা অনিক কুণ্ডু। রাতের সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।
অনিক কুণ্ডু তার পোস্টে কলকাতায় ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশিদের স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘গতকাল (১৯ আগস্ট) রাত ২টায় মির্জা গালিব স্ট্রিট, নিউমার্কেট এলাকায় ফায়ার ব্রিগেডের পাশের বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে।’
তিনি জানান, ওই ভবনসহ আশপাশের এলাকা বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত। কলকাতায় এলে সাধারণত অনেক বাংলাদেশি এ এলাকায় অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ভবনের লবির দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। সে সময় তিনি, তার বাবা ও মা তৃতীয় তলায় ছিলেন। পাশের কক্ষে থাকা এক দম্পতি, তাদের সন্তান এবং আরও একজনসহ কয়েকজন বাংলাদেশি সেখানে আটকা পড়েন।
অনিক কুণ্ডু লেখেন, ‘সিঁড়িতেও আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়া থাকায় আমরা কোনোভাবেই ছাদে যেতে বা নিচে নামতে পারছিলাম না। কোনোমতে বাথরুমের জানালা খুলে ফায়ার সার্ভিসে কল দিয়ে জানাই যে আমরা চারতলায় আটকে আছি, আমাদের বাঁচান, আমরা নিশ্বাস নিতে পারছি না।’
এরই মধ্যে ভবনের কাচ ও এসি বিস্ফোরিত হতে থাকে বলেও জানান তিনি। আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনার কিছুক্ষণ আগে দমকলকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে নিচে নামাতে সক্ষম হন।
মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অনিক কুণ্ডু লেখেন, তার চোখের সামনে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মৃত ও আহতদের নিয়ে যেতে দেখেছেন। তার ভাষ্য, অনেক মানুষ মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশুও রয়েছে। অধিকাংশই বাংলাদেশি হতে পারেন বলে ধারণা তার।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। কোনো হোটেলেই জায়গা না পাওয়ায় সারারাত বাইরে কাটিয়ে সকালে অন্য একটি হোটেলে ওঠেন অনিক কুণ্ডু ও তার পরিবার। পরে পুলিশ ও দমকল বিভাগের সহায়তায় নিজের জিনিসপত্র বের করে অন্য হোটেলে যান।
তিনি জানান, তিনি, তার বাবা ও মা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। ‘ভগবানের অশেষ কৃপায় এ যাত্রায় বেঁচে গেছি’ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, বাথরুমে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তে তাদের মনে হচ্ছিল, তারা আর বাঁচবেন না।
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চিকিৎসা করাতে এসে যেন মরতে এসেছি!’ সিঁড়ি ও লিফটে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখার অভিজ্ঞতাকে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে অনিক কুণ্ডু অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘প্রতিটা শহর—ঢাকা হোক বা কলকাতা—যেন একটা মরণ বোমা। কোথাও যেন অগ্নিনির্বাপণের কোনো সঠিক ব্যবস্থা নাই। ব্যবসায়ীরা কি শুধু টাকাই কামিয়েই যাবে? মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কোথায়?’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের অনেকেরই অনেকের সঙ্গে হয়তো শেষ দেখা হয়ে গেছে। তাই যে যার সঙ্গে পারেন ভালো ব্যবহার করুন।’
/অ