দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি নাঈম আখতার আফগান ও বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিম। ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে করা কয়েকটি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
গত মে মাসে ইমরান খান সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে তাকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সেবা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।
আদালত শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে একটি চিকিৎসক বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বোর্ডে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সাধারণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতান থাকবেন। আবেদনকারী ও ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খানও চিকিৎসা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বন্দির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আদেশে কয়েকটি শর্তও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক বোর্ডের তৈরি চিকিৎসা প্রতিবেদন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনজীবী গণমাধ্যম বা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবেন না। এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা যাবে না।
নির্দেশনা অমান্য হলে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার মনে করলে এ সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে, তারা এ বিষয়ে উপযুক্ত আবেদন করতে পারবে। একইভাবে সরকারের অনীহার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পক্ষও আদালতে আবেদন করতে পারবে।
এ ছাড়া ইমরান খানের দল, পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের শিফা হাসপাতালের আশপাশে কোনো জনসমাবেশ বা মিছিল আয়োজন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সব খরচ ইমরান খানের পরিবার ও স্বজনরা বহন করবেন।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এর এক দিন আগে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন জমা দেন রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান ও তার স্ত্রীর জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারাগারের চিকিৎসা কর্মকর্তারা দিনে তিনবার ইমরান খানকে দেখেন এবং তার রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করেন।
তবে গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসক ডা. আখতার আলী বান্দেশাহ তাকে পরীক্ষা করে অনিয়ন্ত্রিত ও ওঠানামা করা রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান স্ত্রী, পরিবার ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে অনিয়মিত সাক্ষাৎ এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশন না পাওয়াকে মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। চিকিৎসক তার মানসিক চাপ কমাতে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আরও ঘন ঘন সাক্ষাতের ব্যবস্থা, পড়ার উপকরণের সুযোগ এবং হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালির বিশেষ পরীক্ষার সুপারিশ করেন। রক্তচাপের ওষুধের মাত্রা বাড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
গত ১০ আগস্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার সুযোগ, কারাগারের দৈনন্দিন নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এবং সংবাদপত্র, সাময়িকী, টেলিভিশন ও বই পড়ার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে।
এ ছাড়া উদ্বেগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিকটাত্মীয় বা স্ত্রীর সঙ্গে আরও ঘন ঘন যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।
ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে তার ডান চোখের কেন্দ্রীয় শিরায় রক্ত চলাচলে বাধার সমস্যা ধরা পড়ার পর তাকে একাধিকবার চিকিৎসার জন্য পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপের পর তার দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও চলছে। পিটিআইয়ের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
/অ