দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। পুতিনের সফরকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বৃহস্পতিবার পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেন। জাপানে দ্বীপটি এতোোরোফু নামে পরিচিত। কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণের দ্বীপ রাশিয়া ও জাপান—উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, পুতিনের সফর জাপানের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং বিতর্কিত দ্বীপগুলো নিয়ে জাপানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দ্বীপগুলো জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগিও পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বীপগুলো ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইন—উভয় দিক থেকেই জাপানের ভূখণ্ড এবং সরকার এই সফরের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় এবং প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই দ্বীপগুলো নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো ও টোকিওর মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে পুতিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাছের ডিমের খাবারও খান।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে মস্কো। ইতুরুপ দ্বীপে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটিও রয়েছে। সম্প্রতি কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি দিয়ে চীন ও রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ যৌথ টহল পরিচালনা করেছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর ২০২২ সালে জাপান মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে আছে। এর আগে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের বিতর্কিত দ্বীপগুলো সফরের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছিল জাপান।
/অ